খুলনা | শনিবার | ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে: বিজেপি নেতা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৯ পি.এম | ০৭ নভেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চল ভারতের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। তার দাবি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) পাশাপাশি এসব অঞ্চলও ভারতের পুনরুদ্ধার করা উচিত। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এসব অঞ্চল জোর করে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুবে বলেন, নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর একসময় ত্রিপুরার টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল।

তিনি বলেন, ‘এখন শুধু পাকিস্তানের কাছ থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের সময় আসেনি। নেহরু যেসব ভূখণ্ড জোর করে হস্তান্তর করেছিলেন, সেসবও ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট।’

বিজেপির এই নেতা দাবি করেন, তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিং নিজের রাজ্যের ভূখণ্ড নিয়ে নেহরুর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন।

দুবে বলেন, ‘নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল। আগে ত্রিপুরার নাম ছিল টিপরা। রাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুর সঙ্গে বারবার বিরোধে জড়িয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে নেহরু তার ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে পারেন? কীভাবে নোয়াখালী পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়া যায়? কীভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম নিয়ে গণভোট আয়োজন করা যায়? এগুলো আমার রাজ্য। এগুলো ভারত, পাকিস্তান নাকি স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হবে, তা আমিই ঠিক করব।’

তিনি আরও দাবি করেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনাবাহিনী পাঠানোর পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। ওই সময় মহারানি কাঞ্চনপ্রভা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দলিলে স্বাক্ষর করেন।

নোয়াখালী হত্যাকাণ্ড নিয়ে নেহরুকে দোষারোপ
১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়েও নেহরুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন নিশিকান্ত দুবে।

তার দাবি, নোয়াখালীতে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নেহরু মুসলিম লীগকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

দুবে বলেন, ‘নেহরু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। ভারত ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হলেও তিনি ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হননি। তিনি ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হন। এরপরই মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীতে ব্যাপক হিন্দু নিধনযজ্ঞ সংঘটিত হয় এবং একদিনে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হন। তবে এই নিহতের সংখ্যার পক্ষে তিনি কোনো সূত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে না থাকাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনুন্নয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিজেপির এই সংসদ সদস্য।

তার দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। খনিজ সম্পদ, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করতে না পারা এবং অঞ্চলটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পেছনেও এই বন্দর না থাকার ভূমিকা রয়েছে।

দুবে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর চলে যাওয়ার কারণেই গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন থমকে গেছে। আজ অঞ্চলটি পিছিয়ে থাকলে, নানা সমস্যায় পড়লে এবং নিজেদের খনিজ, গ্যাস ও অন্যান্য সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে তার অন্যতম কারণ এই বন্দর আমাদের হাতে নেই।’

তিনি আবারও নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।

সিলেট গণভোট ও বাহারুল ইসলামকে নিয়েও অভিযোগ
সিলেটের গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামকে কংগ্রেস পরবর্তী সময়ে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল বলে দাবি করেন দুবে।

তার অভিযোগ, বাহারুল ইসলাম মুসলিম লীগের ‘রেড আর্মি’র সদস্য ছিলেন এবং নোয়াখালীর হত্যাকাণ্ড, চট্টগ্রাম দখল ও সিলেটের গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

দুবে বলেন, বাহারুল ইসলাম রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পর হাইকোর্টের বিচারপতি হন। পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর আবারও কংগ্রেস তাকে রাজ্যসভার সদস্য করে।

এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তিনি বলেন, ‘এখন ইতিহাস সংশোধনের সময় এসেছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর পুনরুদ্ধারের সময় যেমন এসেছে, তেমনি উত্তর-পূর্ব ভারতের চট্টগ্রাম বন্দর, সিলেট ও নোয়াখালী পুনরুদ্ধারের সময়ও এসেছে।’

ত্রিপুরার রাজপরিবারের উত্তরসূরিরও একই ধরনের অভিযোগ
নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের আগে ত্রিপুরার টিপরা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মাও দেশভাগের সময় ত্রিপুরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড পূর্ব পাকিস্তানের হাতে চলে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় তার দাদিকে অন্ধকারে রেখে সাবেক ত্রিপুরা রাজ্যের বিশাল অংশ পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তার ভাষায়, এটি তাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়।

প্রদ্যোত মানিক্য বলেন, ‘আজ আমাদের সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার থাকলে শিলিগুড়ির চিকেনস নেক নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন থাকতে হতো না।’

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন ভারত সরকারের এই কৌশলগত ভুলের মূল্য শুধু ত্রিপুরা বা উত্তর-পূর্ব ভারতকেই নয়, পুরো ভারতকেই দিতে হয়েছে।

তার দাবি, বৃহত্তর টিপরাল্যান্ড আন্দোলনকে প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য ঐতিহাসিক ভুলের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোকে একীভূত করা।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সিলেটের একটি বড় অংশ গণভোটের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ