খুলনা | শনিবার | ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

তাওহীদের ‘হৃদয়’ নিংড়ানো ডাবল সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:১৫ পি.এম | ০৭ নভেম্বর ২০২৬

 

তাওহীদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন হৃদয়। এর মধ্যে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নবম উইকেটে ৮৫ রান যোগ করেন হৃদয়। আর অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সাথে তার ১১৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে লিডের পথে এগিয়ে দেয়। জবাবে খেলতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করে দিনের খেলা শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল বেশ নড়বড়ে। ভাগ্যের জোরে প্রথম ওভারেই দুইবার বেঁচে যান ব্র্যান্ডন কিং। বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই দুটি রিভিউ নষ্ট করে। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে প্যাডে আঘাত লেগে বলটি বাতাসে উঠে যায়। ফিরতি ক্যাচ নিতে ছুটে গিয়ে উদ্‌যাপন শুরু করেন তাসকিন, তবে তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাটের সঙ্গে বলের কোনো সংযোগই হয়নি।

ব্যাট প্যাডে লাগার সময় পরপর দুটি শব্দ হওয়ায় বল ব্যাটে লেগেছে বলে মনে করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ফলে বেঁচে যান ব্র্যান্ডন কিং। এরপর ওভারের পঞ্চম বলে কিংয়ের এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করে বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার সাড়া দেননি। এরপর আবার রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায় বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছিল বল। ফলে দুটি রিভিউ নষ্ট হয় বাংলাদেশের। এরপর কিং ৫ ও জশুয়া ডি সিলভা ২ রান করে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন।

এর আগে সিলেটে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ সাবলীল ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়। তাদের দুজনের ব্যাটে সকালের আধা ঘণ্টা অনায়াসে কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তবে ভালো খেলতে খেলতে মুশফিক ফিরলে ভাঙে জুটি। জোমেল ওয়ারিক্যানের হাওয়া ভাসানো ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কভারে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। ৭৬ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন তিনি।

মুশফিক ফেরার পর হৃদয়কে সঙ্গ দিতে পারেননি লিটন দাস। ডানহাতি ব্যাটারও আউট হয়েছেন ওয়ারিক্যানের হাওয়ায় ভাসানো বলে, একই রকম শট খেলে। দুই চারে ৮ রান করেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার। মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা সঙ্গ দিয়েছিলেন হৃদয়কে। তবে ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। রস্টন চেজের বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়েছেন। জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরতে হয় ১৬ রান করা মিরাজকে।

হাসানও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। তবে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে থাকেন হৃদয়। লাঞ্চের আগে পেয়েছেন সেঞ্চুরিও। ১৭১ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। লাঞ্চ থেকে ফিরে আক্রমণাত্বক ব্যাটিংয়ে নিয়মিত বাউন্ডারি মারতে থাকেন হৃদয়। মাঝে আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান ডানহাতি এই ব্যাটার।

একটু পর শামার জোসেফকে ফ্লিক করে চার মেরে ২৩৫ বলে ছুঁয়েছেন দেড়শ। এ ছাড়া তাইজুলের সঙ্গে শতরানের জুটিও গড়েন। তবে দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়ার আগে তাইজুলের বিদায়ে ভাঙে জুটি। ওয়ারিক্যানের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পিং হয়েছেন ৫৬ বলে ২২ রান করা তাইজুল। ভেঙেছে হৃদয়ের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি। অষ্টম উইকেটে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় শতরানের জুটি।

তাইজুল ফেরায় তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের রান বাড়াতে থাকেন হৃদয়। ওয়ারিক্যানের বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে ৩০৪ বলে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করেছেন হৃদয়। বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরিও। হৃদয়ের আগে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।

যেখানে মুশফিক একাই তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। টেস্টে এতদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস ছিল মুশফিকের। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজি ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। মুশফিকের সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ২৪২ রানের ইনিংস খেলে। ২২ চারের বিপরীতে ১১ ছক্কা মেরেছেন তিনি।

এমন ব্যাটিংয়ে ভেঙে দিয়েছেন তামিম ইকবালের ছক্কার রেকর্ড। এতদিন টেস্টের এক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭ ছক্কার রেকর্ড ছিল তামিমের। এখন সেটা হৃদয়ের দখলে (১১ ছক্কা)। ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারতেন হৃদয়। তবে জেইডেন সিলসের বাউন্সারে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে তাসকিন আউট হলে অপরাজিত থাকতে হয় হৃদয়। সাদমান না থাকায় ৯ উইকেটে ৩৮৬ রান তুলে থামতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে তারা লিড পায় ৩০ রানের।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ