খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

চরম বিপাকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা

ইজিবাইকে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য অসন্তোষ নগরবাসীর

সোহাগ দেওয়ান |
০৩:৩০ এ.এম | ০১ এপ্রিল ২০২২


খুলনা মহানগরীতে হঠাৎ করেই ইজিবাইকের ভাড়া ৫০ থেকে ক্ষেত্র বিশেষ ১০০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে! এ নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সাথে ইজিবাইক চালকদের কথা কাটাকাটিসহ নানা অসন্তোষ রকমের ঘটনা ঘটছে। ইজিবাইক চালকরা আকস্মিক ভাবে অস্বাভাবিক এ ভাড়া বৃদ্ধির দু’টি কারণ দেখাচ্ছেন। তার মধ্যে একটি হলো স¤প্রতি দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি এবং কেসিসি’র কাছ থেকে ইজিবাইকের লাইসেন্স গ্রহণ। তবে এ ভাড়া বৃদ্ধির সাথে কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এভাবেই হঠাৎ করে ভাড়া বৃদ্ধি করা নিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ। তাছাড়া স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। ইজিবাইকের এ ভাড়া নৈরাজ্যের বিষয়ে মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের কোন অস্তিত্ব মেলেনি। কয়েকটি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করা হলে কেউই এ দায় নিতে চায়নি।     
নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ইজিবাইক চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন রুটে ইজিবাইকের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যে ভাড়া ৫ টাকা ছিলো সেখানে এখন নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। ১০ টাকার ভাড়ার স্থানে ১৫ টাকা থেকে ক্ষেত্র বিশেষ ২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। নগরীর  সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ি, ময়লাপোতা, সাতরাস্তা মোড়, রয়্যাল মোড়, পিটিআই মোড়, রূপসা ট্রাফিক মোড়, কোর্ট, জেলখানাঘাট, নিরালা, গল­ামারী, খালিশপুরসহ প্রত্যেক রুটে এ অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে। 
এছাড়াও খুলনা নগরীর বিএন স্কুল এন্ড কলেজ, বয়রা সরকারি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, বয়রা মহিলা কলেজ, মুন্নুজান বালিকা বিদ্যালয়, সরকারি মডেল স্কুল, জিলা স্কুল, সরকারি করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়, কলেজিয়েট গালর্স স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার-হাজার শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। হঠাৎ করেই এ ভাড়া বৃদ্ধিতে স্বল্প ও মধ্য আয়ের পরিবারের ছেলে-মেয়েরা বেশী সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন। এটিকে এক প্রকার নৈরাজ্য বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অভিভাবক ও নাগরিক নেতারা। 
বিভিন্ন সময় ইজিবাইক সংক্রান্ত আন্দোলন-সংগ্রামে নাম সর্বস্ব কয়েকটি সংগঠনের অস্তিত্ব বা কার্যক্রম দেখা গেলেও ভাড়া নৈরাজ্য প্রশ্নে কেউ মন্তব্য করেননি। 
এ বিষয়ে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার, এভাবে ভাড়া বৃদ্ধির কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। যেহেতু সিটি কর্পোরেশন তাদের লাইসেন্স দিয়েছে, তারা এ ভাড়া নির্ধারণ করে দিবেন। কোন ভাবেই সিটি কর্পোরেশন এ দায় এড়াতে পারেন না। 
এ নাগরিক নেতা আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ নৈরাজ্যের সাথে জড়িত। কারা তারা এ বিষয়টি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করে শনাক্ত করুক। এভাবে চলতে পারেনা।  
অপর দিকে  জন উদ্যোগ খুলনার আহবায়ক এড. কুদরত ই খুদা বলেন, বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ইজিবাইকের সংখ্যা নির্ধারন ও ভাড়া নির্ধারণ করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং বিআরটিএ ভাড়া নৈরাজ্যের এই ঘটনার জন্য দায়ী। তাছাড়া এই নৈরাজ্যের সাথে সুবিধাভোগী কোন সংঘবদ্ধ চক্র জড়িয়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আলী আকবর টিপু বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাথে কোন আলোচনা করেনি ইজিবাইক মালিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের উপস্থিতিতে সাধারণ সভায় শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 
তিনি আরও বলেন, জনদুর্ভোগসহ কোন প্রকার নৈরাজ্যকে সিটি কর্পোরেশন সমর্থন করে না বরং এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ