খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

STARR Operation/ স্টার অপারেশন কি এবং কেন করা হয়

কৃষ্ণা রুপা মজুমদার |
১২:০৪ এ.এম | ০৮ মে ২০২২


অত্যাধুনিক অপারেশনের নাম স্টার বা STARR, যে অপারেশন Obstructive Defecation Syndrome/Stool Evacuate Dzsfunction অর্থাৎ মলত্যাগের সময় মলদ্বারে বাধাপ্রাপ্ত মল-এর অসুখ হলে এ অপারেশন করা হয়!

অব্স্ট্রাকটিভ ডেফিকেশান সিনড্রম এর লক্ষণ ও প্রতিকার এবং অত্যাধুনিক অপারেশনের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে এই অসুখটা এমন যে রোগীর পক্ষে বোঝা খুব কঠিন কারণ রোগটি গেজ বা ফিস্টুলার মতো লক্ষণ দেখা দেয়না। তবে পাইলস্ এর মত উপসর্গ নিয়ে আসেন। খাঁটি বাংলা ভাষায় বলতে যা বোঝায় তা হলো, স্বাভাবিক ভাবে যে মলত্যাগ হয় তার বিপরীত অবস্থাকে বোঝায়। মানে রোগীর মলত্যাগের সময় মনে হবে মলত্যাগ পরিপূর্ণ হলনা বা মল রেকটাম মানে মলদ্বার থেকে প্রায় ৪/৫ সেমি দূরে গিয়ে বা একটু নিচেও আটকে থাকে যা রোগীর পক্ষে স্বাভাবিক ভাবে ত্যাগ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ মহিলাসহ পুরুষের এই রোগ হয়ে থাকে।

লক্ষণসমূহ : ১) কোষ্ঠকাঠিন্য এবং শক্ত মলত্যাগ, ২) মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, ৩) মলদ্বারে ব্যথা, ৪) রোগী অনেকক্ষণ ধরে মলত্যাগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হোন, ৫) স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে মলত্যাগের চেষ্টা করা, ৬) অনেক চাপ দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা কিন্তু incomplete evacuation  অর্থাৎ পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া। এভাবে চাপ দিতে দিতে মলদ্বার উপরের এবং আশেপাশের টিস্যু বা মাংস বা কোষগুলো ছিড়ে যায় এবং একসময় fecal incontinece.
* কোন কোন সময় মলদ্বার আংশিক বাহিরে বের হয়ে যাওয়া বা প্রোল্পাস (partial Rectal prolapse) হয়।

* সম্পূর্ণ মলদ্বার বের হওয়া (complete rectal prolapse) হয়ে যায়।

* এভাবে একসময় মল আটকে যায় ফলে রোগীর পেট ফুলে যায় এবং পেট ব্যাথা শুরু হয়। অনেক সময় রোগী রোগীকে finger manipulation  (আঙ্গুল ব্যবহার করে) stool/ মল বের করতে হয়।

* একটা সময় রোগীর মল নরম করার জন্য বিভিন্ন হারবাল ওষুধ, সোনাপাতাসহ বিভিন্ন laxatives-এর উপর যেমন : Syrup : Avolac, Lactutose  জাতীয় ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন রোগীরা। এতে শুধু মল নরম হয়, কিন্তু রোগ মুক্তি হয়না।

প্রতিকার : প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্তকরণের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাব : ১) খাদ্যাভাস পরিবর্তন, ২) নার্ভ স্টিমুলেশন, ৩) মানসিক সাপোর্ট, ৪) এনেমা (বহবসধ), ৫) কোলসিসিন, মিজোপ্রস্টল জাতীয় ওষুধ দিয়ে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যখন উপরোক্ত নিয়মে রোগী রোগমুক্তি পায় না, তখন চিকিৎসা হিসেবে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

অপারেশনের নাম : “স্টার অপরারেশন” Starr Operation (Stapled Transanal Rectal Resection Operation).

১) অপারেশন স্পাইনাল এনাসথেসিয়া বা পুরো অজ্ঞান না করে পিঠে ইনজেকশান দিয়ে অপারেশন করা হয়। ২) কম সময় ১/২ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়, ৩) কোন রক্ত শরীরে নেবার প্রয়োজন হয় না, ৪) রোগী অপারেশনের ৬ ঘন্টা পর মুখে খেতে পারে ও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারেন, ৫) অত্যাধুনিক স্ট্যাপলার মেশিন ব্যবহার করে অপারেশন করা হয়। ৬) একবার অপারেশন করলে আবার হবার সম্ভাবনা শতকরা ০.৫% থেকে ১%, ৭) কোনো Major complication হয়না।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারী), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ