খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

মানবতার ফেরিওয়ালা চাঁদপুরের ফিরোজ হাসান

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১২ পি.এম | ০৮ মে ২০২২


সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে এদেশে অসংখ্য তরুণ নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। আত্মপ্রচার নয়, আত্মতৃপ্তিই যাঁদের মূল উদ্দেশ্য। মানবতার কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া তিনি। হ্যাঁ আমরা কথা বলছি মানবতার ফেরিওয়ালা ফিরোজ হাসান নিয়ে। ফেসবুকে Free Motion এবং ইউটিউবে Free Motion By Firoz Hasan নামে পরিচিত। যার আসল নাম ফিরোজ হাসান, বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায়।

মূলত তিনি আপাদমস্তক একজন ভ্রমণপিয়াসু। বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশের নানা প্রান্তে- পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গলে। শুরুতে ভ্রমণকালে আশপাশের বিভিন্ন মনোরম দৃশ্য ভিডিও করে আপলোড দিতেন ফেসবুকে। ভ্রমণে আসা যাওয়ার মাঝে কোনো গরিব পথচারী, পথশিশু চোখে পড়লে তাদের সাহায্য করতেন। ভ্রমণের সুবাদে এবং মানবিক চেতনা থেকেই শুরু হয় অসহায় মানুষদের পাশে দাড়ানো।

একসময় চিন্তা করলেন, এসব সাহায্যে ঘটনা ভিডিও করে করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন। বর্তমান সময়ে মানুষ যেখানে প্রচুর অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েও তৃপ্ত নন, তাদের কেবল আরো চাই, আরো চাই ক্ষুধা, সেখানে সমাজের ভাগ্যহত এইসব মানুষদের অল্পতেই খুশি করা যায়। যাদের চাহিদাও খুব বেশি নয়। এই থেকে শুরু

এমন চিন্তা থেকেই মানবিক সেবার দৃশ্যগুলো ক্যামরাবন্দি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড শুরু করেন। আর এসব ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে এদেশের হতাশাগ্রস্থ তরুণ প্রজন্ম। তার প্রতিটি ভিডিও লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখছেন, সেয়ার করছেন। তবে হ্যা তার এই ভিডিওগুলোতে দেখা যায় না তাকে। তিনি থাকেন ভিডিওর আড়ালে “ফ্রি মোশন” ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেল যাত্রা শুরু হয় ৫ আগস্ট ২০১৯ সালে। বর্তমানে ফেসবুকে ফলোয়ার ৩.৭ মিলিয়ন এবং ইউটিউবে সাবস্কাইবার এক মিলিয়নেরও বেশি।

এ নিয়ে ফিরোজ হাসান বলেন, ‘আমি খুব ট্রাভেল করি, বাইক নিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াই; আর আসা-যাওয়ার মাঝে যতটুকু পারা যায় গরিব মানুষদের সাহাঘ্য করতাম। এক সময় মনে হলো আমার এ কাজ যদি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেই, হয়ত আরও অনেকেই অনুপ্রাণিত হবে, তারাও তেমন কাজ করবে। সেই চিন্তা থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভিডিও শুরু করি।’

ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বাইক নিয়ে কোথাও যাওয়ার পথে ফুল বিক্রেতা ছোট্ট শিশুরা দৌড়ে এলে তাদের থেকে বিশ টাকা মূল্যের ফুল নিয়ে বিনিময়ে দিচ্ছেন এক হাজার টাকার নোট। আবার গরিব দুঃস্থদের সঙ্গে নিয়ে দোকান থেকে কিনে দিচ্ছেন চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য; বস্ত্রহীনদের কিনে দিচ্ছেন জামাকাপড়। তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগাতে ফিরোজের এই ভিন্ন ধরনের মানবসেবা নেটিজনদের প্রশংসায় ভাসছে। লাখ লাখ তরুণ তার ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করছে।

যতটুকু জানা গেছে ফিরোজ হাসান নদীবিধৌত চাঁদপুর হাইমচর উপজেলা সন্তান। নদী পাড়ের সন্তান হিসেবে তাঁর হৃদয়, মন এবং চিন্তাও যেন নদীর মতোই বিশাল।

ঈদুল ফিতরের আগের দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, পৃথিবীর সমস্ত অর্থ সম্পদ তখনই মূল্যহীন যখন সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আপনার বাবা-মার জন্য ঈদে ছোট একটা গিফট কিনে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেকের হয়তো বাবা-মা থাকে কিন্তু দেওয়ার মতো  মন ও সামর্থ্য থাকে না। আবার অনেকের মন এবং সামর্থ্য দুটোই থাকে, তবে বাবা- মা আর থাকে না। তাই যতদিন বাবা-মা বেঁচে আছে ততোদিন সামর্থ্যানুযায়ী উনাদের খুশি রাখার চেষ্টা করুন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ