খুলনা | শুক্রবার | ০১ জুলাই ২০২২ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

বিভিন্ন বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে দিতে হবে অভিভাবকের সম্মতিসহ মুচলেকা

র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে যবিপ্রবিতে ৩ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৭:৫৭ পি.এম | ২১ মে ২০২২


র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের তিন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ইএসটি) মোঃ আল-আমিন, গণিত বিভাগের মোঃ সোহেল রানা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মোঃ বারিউল হক মুবিন। তারা গত শনিবার দুপুরে যবিপ্রবি’র প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে রিজেন্ট বোর্ডের ৭৮তম বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বোর্ডের সদস্যদের অনেকে সশরীরে উপস্থিতির থাকার পাশাপাশি ভার্চুয়ালিও যুক্ত থাকেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায় র‌্যাগিংয়ের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং এন্ড হেল্থ সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।
রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মসিয়র রহমান হলের ৩২০ নম্বর কক্ষ থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাব্বির আলমকে ডেকে নিয়ে গণিত বিভাগের সোহেল রানা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মোঃ বারিউল হক মুবিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের আল-আমিন শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। এতে সাব্বির আলম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ওই কক্ষে উপস্থিত অন্য ১০-১৫ জন ছাত্র তাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল বলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে। সাব্বির আলম জ্ঞান হারানোর পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ১ থেকে দেড় ঘন্টা হাসপাতালে না নিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হয়। তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তাকে ধরাধরি করে নিচে নামিয়ে যবিপ্রবি’র এ্যাম্বুলেন্স যোগে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ওই রাতে সাব্বির আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও কিছু শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় ও পরদিন সকালে ১৮ এপ্রিল তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হলে ফেরৎ নিয়ে আসা হয় এবং প্রশাসনের কাছে কোনোরূপ অভিযোগ না করার জন্য হুমকি প্রদান করা হয়।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাব্বির আলমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং আলামত লুকানোর চেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় রিজেন্ট বোর্ড থেকে তাদেরকে এই শাস্তি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায়, বিভিন্ন বিভাগের আরও ১০ জন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে র‌্যাগিংয়ে জড়িত থাকার মতো অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকবে না উলে­খ করে অভিভাবকের সম্মতিসহ ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুচলেকা না দিলে ওই শিক্ষার্থীদেরও এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ১০ জন শিক্ষার্থী হলেন- 

১. পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুব হাসান রকি, 

২. রসায়ন বিভাগের শেখ জুবায়ের, 

৩. পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ মোঃ রায়হান রহমান রাব্বি, 

৪. কেমিকৌশল (সিএইচই) বিভাগের মোঃ পারভেজ মিয়া ও একই বিভাগের, 

৫. মোঃ এস বি সানাউল­াহ সাকিব, 

৬. পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ইএসটি) মোঃ মোহাইমিনুল হক, 

৭. মোঃ খালিদুজ্জামান সৌরভ, 

৮. বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের রাফিউর রহমান অপূর্ব, 

৯. কেমিকৌশল (সিএইচই) বিভাগের মোঃ সালমান মোল­্যা, 

১০. পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের (ইএসটি) মোঃ সাইমুন নাইস। 

তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এবং বাকী সাতজন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারী কমিটি ‘রুলস অব ডিসিপ্লিন ফর স্টুডেন্টস’ অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তা গৃহীত হয়। তাদের শাস্তি সংক্রান্ত নোটিশ খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ