খুলনা | শুক্রবার | ০১ জুলাই ২০২২ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

নবীর (সাঃ) প্রতি কটূক্তি ও অবমাননা কেন?

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী |
০২:০৯ এ.এম | ১৭ জুন ২০২২


সর্বযুগের, সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ সাল­াল­াহু আলাইহিস সালাম-এর প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের দুইজন শীর্ষস্থানীয় নেতার কটূক্তি ও অবমাননার কারণে স¤প্রতি ভারতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সারাবিশ্বে উঠেছে নিন্দার ঝড়। চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে বিজেপি। কিছুদিন আগেও ভারতের কর্নাটকে হিজাব নিয়ে হয়ে গেল তুলকালাম কান্ড। হিজাবের প্রতি বিষোদ্বগারের নগ্ন রূপ আমরা দেখলাম হিন্দুত্ববাদী একদল উগ্রপন্থী যুবকের। কিন্তু কেন? শান্তির ধর্ম এবং একমাত্র অবিকৃত ধর্ম ইসলামের প্রতি কেন এই আক্রমণ?
কোন মুসলমানই অন্য ধর্মের নবীর প্রতি কখনই কটাক্ষ ও অবমাননা করেনা। বিগত কোন যুগেই এর দৃষ্টান্ত নেই। ইহুদীদের নবী মূসা, হারুন, সুলাইমান, দাউদ; খ্রিস্টানদের নবী ঈসা (আঃ) সবার নাম শুনলেই মুসলমানরা বলে, আলাইহিমুস-সালাম, অর্থাৎ তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এটা আমাদের মহানবীর (সাঃ) শিক্ষা। হুজুর (সাঃ) নিষেধ করেছেন যে, বিধর্মীরা তোমাদের রবের গালি দিলেও তোমরা তাদের মাবুদগুলোকে গালি দিবে না। অন্য ধর্মের নবী মানে তিনি মুসলমানদেরও নবী। অথচ গত দেড় হাজারের বছরের ইতিহাস কি বলছে? সেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এর যুগ থেকে অদ্যবধি বিধর্মীদের একটি মহল কি পরিমাণ ষড়যন্ত্র ও বিষোৎগারে লিপ্ত আছে। তাহলে প্রশ্ন হলো তারা কেন আমাদের পূত-পবিত্র নবীকে নিয়ে কটাক্ষ করবে, অপবাদ দিবে ও কুৎসা রটনা করবে?
আমাদের নবীর (সাঃ) প্রতি খ্রিস্টান ও ইহুদীদের ষড়যন্ত্র আজকের নতুন নয়। নবী করীম (সাঃ)-এর জমানা থেকেই এই ষড়যন্ত্র চলে আসছে যা কুরআনের অসংখ্য জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে। রসুলুল­াহ (সাঃ) মদীনায় আগমন করার পর বিভিন্ন ইহুদী গোত্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেছিলেন যে, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে না এবং একে অপরকে সাহায্য করবে। কিন্তু তারা সবসময়ই বিশ্বাসঘাতকতা করতো এবং মক্কার কাফের ও অন্যান্য মুনাফিকদের সাথে যোগসাজসে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতো এবং মহানবী (সাঃ) কে পৃথিবী থেকে চির বিদায় করার ফন্দি আটতো।
মুশরিক, ইহুদী এবং খ্রিস্টানরা সবসময়ই মুসলমানের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে এবং নানাভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, কুৎসা রটনা করছে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব দয়ার নবী (সাঃ) কে অবমাননা করছে এবং তার সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ উক্তি ও প্রপাগান্ডা করে চলেছে। তারই সা¤প্রতিক কিছু নমুনা আমরা লক্ষ্য করেছি। বেশ কয়েক বছর আগে, ইহুদী বংশোদ্ভ‚ত মার্কিন নাগরিক স্যাম বাসিল মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পরিবারকে প্রকাশ্য অবমাননা করে কুরুচিপূর্ণ একটি মুভি তৈরি করেছিল। দোজাহানের সরদার মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার পূত-পবিত্র বিবিগণ বিশেষ করে খাদিজা (রাঃ), আয়েশা (রাঃ) এবং অন্যান্য সাহাবীদের সরাসরি নাম নিয়ে কুলাঙ্গার এই স্যাম বাসিল যে অর্ধনগ্ন ও চরম কুরুচিপূর্ণ চলচ্চিত্র তৈরি করেছে তা দেখলে দুর্বলতম মুসলমানেরও লোম খাড়া হয়ে উঠবে। জঘন্য চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রশমিত না হতেই আবার কিছুদিন পর ফ্রান্সের এক পত্রিকায় রসুল (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন ছাপা হয়েছিল। এর কিছুদিন পর এই একই পত্রিকা আবারও মহানবীর (সাঃ) নামে অবমাননাকার ব্যাঙ্গাত্মক চিত্রের প্রদর্শন করে। সর্বশেষ মহানবীর (সাঃ) প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের দুইজন শীর্ষস্থানীয় নেতার লাগামহীন কটূক্তি। এ যেন কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা! এ কারণে ফুঁসে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায়ও এর প্রতিবাদ হয়েছে।
এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় হলো : ১. এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করা। তা হতে পারে মুখের মাধ্যমে, লেখার মাধ্যমে অথবা প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে। সোশাল মিডিয়াতে দেখা যায়, অনেক নাস্তিক, বিধর্মী, এমনকি অনেক ধর্মযাজকও এই কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছে। আমরাও এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও ধিক্কার জানায়। ২. বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানকে আমরা ভারতের প্রতি নিন্দাজ্ঞাপন ও চাপ প্রয়োগ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি যাতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। ৩. আরবের বিভিন্ন দেশে ভারত পণ্যকে বর্জন করার যে ডাক দেয়া হয়েছে এটাও জনগণের অধিকার। মনে করলে যে কেউ কোন পণ্য বর্জন করতে পারেন। ৪. দুর্বলতম ঈমানের অংশ হিসেবে এই ঘটনাকে অন্তরে অন্তরে ঘৃণা করা। কারণ মহানবী (সাঃ) বলেছেন, যদি তোমরা অন্যায় কাজ দেখো তাহলে শক্তি থাকলে হাতের দ্বারা বন্ধ করে দিবে, তাও না পারলে জবাব দ্বারা প্রতিবাদ করবে, তাও না পারলে মনে মনে ঘৃণা করবে; আর এটা ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর (সহিহ মুসলিম ও তিরমিজী)।
ইসলামের উপর আক্রমণ সব যুগে ছিল, থাকবে। মনে রাখতে হবে, এই আক্রমণের কারণ অন্য কিছু নয়। পৃথিবীতে একমাত্র ধর্ম ইসলাম যার অনুশীলন করা হয়, বাস্তবে মেনে চলা হয়। পৃথিবীতে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে চলেছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। এটাই বিরোধীতার আসল কারণ। কেননা অন্যান্য বিকৃত ধর্ম নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। শুধু শুধু অহেতুক আক্রমণ ইসলামের উপর।
(লেখক : মৎস্যবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রিন্ট

আরও সংবাদ