খুলনা | শুক্রবার | ০১ জুলাই ২০২২ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

ফেসবুক প্রতারণা : অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন

|
১২:১১ এ.এম | ১৯ জুন ২০২২


ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে যথেষ্টভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। অনলাইন সেবা যেমন অনেক সুবিধা দিয়েছে, ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে সব সেবা-তেমনি এর ফাঁকেই ঢুকে বসে আছে বড় সব প্রতারক। তারা পণ্যের বাহারি বিজ্ঞাপন, ছাড়ের অফার দিয়ে ক্রেতাকে টানছে নানা প্রলোভনে। তার পর মুহূর্তেই বড় ধরণের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বশান্ত করে ক্রেতাকে, নূন্যতম হতাশ করবেই। অনলাইনে কেনাকাটায় অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। অনেক ভূক্তভোগী প্রতিকারের পথ পাচ্ছেন না।
অনলাইন শপিংয়ের নানা ফাঁদ আবিস্কার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স¤প্রতি ফেসবুকে কিছু প্রতারক চক্র বিভিন্ন ব্যবসায়িক নামে অনলাইন শপিংয়ের পেজ খুলে স্মার্টফোন সেট বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এসব অনলাইন শপ থেকে পণ্য অর্ডার করে কেউ পাচ্ছেন নষ্ট ও পুরানো মোবাইল ফোনসেট আবার কেউ পাচ্ছেন খালি প্যাকেট। এসব অনলাইন শপের বাহারি অফার সহজেই মন কেড়ে নেয় যে কোনো অজ্ঞ ক্রেতার। বাজার থেকে কমমূল্যে ব্র্যান্ড নিউ মোবাইল ফোনসেট বিক্রির প্রলোভনমূলক এসব বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকেই। এসব ফাঁদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরী, সহজ-সরল এমন মানুষই বেশি প্রতারিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে কত মানুষ নিয়মিত এভাবে প্রতারিত হচ্ছে, এর কোনো ইয়ত্তা নেই। সাইবার ক্রাইমের বিশেষ টিম নিয়মিত এ রকম প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করছে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য যেন কমছেই না, নানা রকম লোভনীয় অফার দিয়ে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে সাধারণ মানুষকে।
এদিকে ফেসবুকে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের ভূয়া ছবি ও আবেগি পোস্ট দিয়ে হর-হামেশাই ঘটছে প্রতারণা। স¤প্রতি এমন একটি চক্রকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুর জন্য ৬৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। দয়া করে পোস্টটি কেউ এড়িয়ে যাবেন না। সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত পোস্টটি শেয়ার করুন। মানবিক সহায়তার নামে ফেসবুকে এমন পোস্টের মাধ্যমে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। এ রকম একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে প্রতারণার অভিনব কৌশল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরণের পোস্ট দেখে সাহায্যের আগে যাচাই করার পরামর্শ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের। মানুষের আবেগকে পুঁজি করেও যে প্রতারণা করা যায়, গ্রেফতারকৃত ওই চারজন এর উদাহরণ। রাজধানীর মিরপুর ও রংপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাদের। ফেসবুকে অসহায় ও দুস্থ রোগীদের সাহায্যের নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল তারা।
ফেসবুক প্রতারণার অন্যতম টার্গেট নারীরা। নারীদের পোশাক বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে। এতে আকৃষ্ট হয়ে কেউ অর্থ পাঠালে দেওয়া হচ্ছে নিকৃষ্ট, এমনকি পুরানো ও অব্যবহারযোগ্য পোশাক। প্রতারক চক্র নগদ বা বিকাশসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করছে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে। তবে এ দু’টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাফ জবাব-অভিযোগ পেলেই তারা এ ধরণের এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়।
করোনার কারণে একদিকে মানুষের অর্থনীতি যেমন দুর্বল, তেমন ঝুঁকি নিয়ে সবাই মার্কেটে যেতে চান না। আবার মার্কেটে যাতায়াতেও খরচ কম নয়। এসব সংকট পুঁজি করে অনলাইন বাণিজ্যে প্রতারণা চলছেই। অনলাইন বাণিজ্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে ‘প্রতারণা’ শব্দটি। তাই তাদের রাশ টেনে ধরা জরুরি। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে তারাও মহীরুহ হয়ে উঠবে। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে চাই একটি সামাজিক আন্দোলন। বিকাশ বা নগদের এ্যাকাউন্ট খুলতে যেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে, সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে প্রতারকদের খুঁজে বের করা কিংবা আইনের আওতায় আনা কঠিন কিছু নয়। এ ব্যাপারে অপরাধ দমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সক্রিয় হবে-এমনটিই প্রত্যাশিত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ