খুলনা | শুক্রবার | ০১ জুলাই ২০২২ | ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

বৈধ কারখানায় নকল ওষুধ বিষয়টি উদ্বেগের

|
১২:২৩ এ.এম | ২০ জুন ২০২২


অবৈধ কারখানায় নকল ওষুধ তৈরির কথা আমরা জানি। কিন্তু এবার বৈধ কারখানাতেই নকল ওষুধ তৈরির খবর পাওয়া গেছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত ৭৯টি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কারখানায় বিভিন্ন নামিদামি এ্যালোপ্যাথিক কোম্পানির ওষুধ নকল করে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছিলো বলে জানতে পেরেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সরবরাহ করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে। গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, বৈধ ৭৯টি কারখানায় দেশীয় ওষুধের পাশাপাশি নকল করা হচ্ছে বিদেশি নামিদামি কোম্পানির ওষুধও। আর এসব নকল ওষুধের উৎপাদন ও বিপণনের কাজে জড়িত রয়েছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। নকল ওষুধ বিপণনের বড় বাজার রাজধানীর মিটফোর্ড থেকে অসাধু চক্রগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল ওষুধের চালান পাঠিয়ে দিচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফার্মেসি মালিকদের কাছে। অধিক লাভের আশায় জেনে শুনেই ফার্মেসি মালিকরা তা কিনে নিচ্ছে। রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় গড়ে উঠেছে অনেক প্যাকেজিং ব্যবসা। এসব প্যাকেজিং কারখানা থেকে হুবহু আসল মোড়ক তৈরি করা হচ্ছে আর এসব মোড়কে বাজারজাত হচ্ছে নকল ওষুধ। বলার অপেক্ষা রাখে না, আটা-ময়দা-রং-ঘনচিনি-কেমিক্যাল ইত্যাদি মিশিয়ে তৈরি করা এসব নকল ওষুধ রোগ সারানোর বদলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উলে­খ করা যেতে পারে, নকল-ভেজাল ও নিম্নমানের এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০২১ সালে দুই সহস্রাধিক মামলা করেছিল। জরিমানাও আদায় করা হয়েছিল আড়াই কোটিরও বেশি টাকা। কিন্তু নকল-ভেজাল ওষুধ তৈরি ও বিপণন তো কমছেই না, বরং বৈধ কারখানাতেই নকল ওষুধ তৈরির খবর পাওয়া গেছে! বিষয়টি চরম উদ্বেগের। এখন সময় এসেছে প্রতিটি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানিকে নজরদারির আওতায় আনা। ঔষধ প্রশাসন বারবার বলছে, তাদের জনবল কম হওয়ার কারণে তারা এ্যাকশনে যেতে পারছে না। ওষুধ যেহেতু জীবনরক্ষাকারী একটি পণ্য, তাই নকল ওষুধ প্রতিরোধে ঔষধ প্রশাসনকে অবশ্যই জনবল বাড়াতে হবে। অথবা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিয়ে নকল ওষুধের কারখানাগুলো খুঁজে বের করতে হবে। দ্বিতীয় কথা, যে ৭৯টি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কারখানায় নকল ওষুধ তৈরি হচ্ছিলো, সেগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে নিতে হবে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা। নকল ওষুধ উৎপাদনকারীদের ব্যাপারে নমনীয়তা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি মানুষের জীবন-মরণ প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ