খুলনা | শুক্রবার | ৩০ জুলাই ২০২১ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

যেনতেন ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে ডুমুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্প : রয়েছে ত্রুটি

এস এম আমিনুল ইসলাম |
১২:৪৩ এ.এম | ১৫ জুলাই ২০২১

যেন তেন ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে ডুমুরিয়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প। ফলে ঘর নির্মাণের পর পরই ফেটে যাওয়াসহ দেখা দিচ্ছে নানা ক্রটি। প্রয়োজন হচ্ছে ফের মেরামতের। এছাড়া প্রকল্প এলাকাগুলোর স্থান নিচু ও জলাশয়ের কাছাকাছি নির্ধারিত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নিমজ্জিত হচ্ছে ঘর-বাড়ি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়নকারী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পের আওতায় উপজেলা ১০টি এলাকায় মোট ৬৪০টি ঘর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে ব্যয়ে ১৪০টি ঘর নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে কাঁঠাল তলায় ৬০টি, সাহস ইউনিয়নে ৪টি ও থুকড়া প্রকল্পে ৭৬টি ঘর। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা করে ৫০০টি ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কাঁঠাল তলায় ৪৫টি, সাজিয়াড়া শেয়ারঘাটা এলাকায় ৫৬টি, ধামালিয়ায় ৩৯টি, শোভনার বাদুড়গাছা ও বাহাদুরপুরে ২৮০টি ও ভান্ডারপাড়ায় ৮০টি। 
থুকড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত ঘরগুলোতে কাজ করছে ১০ জন শ্রমিক। ঘরের মেঝের পলেস্তরা তুলে ফেলা হচ্ছে। খোঁড়ার কারণ জানতে চাইলে মিস্ত্রী উজ্জ্বল বলেন, আগের যে ঠিকাদার কাজ করেছে যেনেতেন ভাবে। তাই অধিকাংশ ঘরের মেঝের প্লাস্টার ফেটে যাচ্ছে, ফুলে উঠেছে। সেগুলো উঠিয়ে ফের মেরামত করা হচ্ছে।
এ প্রকল্পের মেরামত কাজ পেয়েছেন আজহারুল নামে এক ঠিকাদার। তিনি জানান, থুকড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ঘর রয়েছে ৭৬টি। এরমধ্যে অন্ততঃ ৩৬টি ঘরের অবস্থা খারাপ। যেগুলোর মেঝ ও দেয়ালের প্লাস্টার তুলে আবার নতুন করে করা হচ্ছে। কাজ শেষ করতে ১০/১২দিন সময় লাগবে।
বাহাদুরপুর প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, একদম নদীর পাশে নিচু ধানক্ষেতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তা নেই। মিস্ত্রিীরা নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে পড়ায় সেগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছেন।
উপজেলার আদর্শ প্রকল্প ধরা হয় আটলিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা প্রকল্পটি। নতুন করে মাটি তুলে কাঁঠালতলা নদীর পাশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ করায় ৪টি ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। যেগুলো খুব দ্রুতই মেরামত সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ করায় চারটি ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। যেগুলো মেরামত করে দেয়া হয়েছে।
সাজিয়াড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, সাজিয়াড়া খালের ধার লাগোয়া তৈরি হচ্ছে ঘর। কিছু ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দু’টি ঘরের মাঝখানে রাখা জায়গা একদম সংকীর্ণ। যা ফলে চলাচলে কষ্টসাধ্য। এছাড়া খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রকল্পের ঘর ও আশপাশের জায়গা ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে নিচু জায়গা ও জলাশয়ের পাশে। কিন্তু স্থান গুলো উঁচু করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। যেখানে বসবাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হওয়ায় বেশিরভাগই মেরামত করা লাগছে। অনেক ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিচ্ছে, কোথাও ঘরে নড়বড়ে ভীতে দেবে হেলে পড়ছে।
উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, সাজিয়াড়া ও বাহাদুরপুর প্রকল্প বর্ষা মৌসুমে খালে ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ঘর-বাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হবে। ফলে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে বসবাস করা মুশকিল হযে পড়বে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানো হচ্ছে। থুকড়া প্রকল্পে যেটা হয়েছে সেটা ভুল বোঝাবুঝির কারনে হয়েছে। আমরা অন্যখাত থেকে টাকা দিয়ে ত্র“টিপূর্ণ ঘরগুলো মেরামত করছি।’
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘যেসব ঘরে ত্র“টি ধরা পড়ছে সেগুলো মেরামত করছি। প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে অনেক আগে। তবে যেসব নিচু এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে সেখানে পানি নিষ্কাশনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ