খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

দালাল বিরোধী নিয়মিত অভিযান আটক ১, ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার

খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের সেবা জনবান্ধব করতে নানা উদ্যোগ

বশির হোসেন |
১২:৫৮ এ.এম | ০৪ অগাস্ট ২০২২


খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসাসেবা পেতে প্রতিদিন শত শত রোগী আসেন খুলনা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালে প্রবেশ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে এসব রোগী ও তা স্বজনদের পড়তে হয় দালালের খপ্পরে। কর্মচারী ভেবে সহযোগিতা নিতে গিয়ে সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এমনকি কর্মচারী বেশে থাকা দালালের খপ্পরে পড়ে হতে হচ্ছে সর্বশান্ত। তবে হাসপাতালের পরিচালকের বিশেষ বিশেষ উদ্যোগের পাশাপাশি দালাল বিরোধী নিয়মিত অভিযানে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে, তবে গৃহীত সকল উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে দালাল নির্মূল করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মচারীদের সাথে আঁতাত করে মাসোহারা দিয়ে বহিরাগতরা কাজ করেন ওয়ার্ডগুলোতে। হাসপাতালে সুযোগ থাকা সত্তে¡ও বাইরে দালালের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য করা হয়।
এতসব হয়রানি ঠেকাতে এবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছেন বিশেষ ব্যবস্থা। তারা মনে করছেন এর মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ হয়রানি থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।
হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ রবিউল হাসান জানান, দালালের সহযোগিতা যেন না লাগে, কেউ যদি একজন রোগী নিয়ে আসেন তিনি কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, তার জন্য কিছু কিছু জায়গায় লোকেশন চার্টসহ ডিজিটাল নির্দেশক বোর্ড লাগানো হয়েছে। যার সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। যাতে বাইরে থেকে আসা মানুষের বুঝতে সুবিধা না হয়।
এছাড়া হাসপাতালের কর্মচারীদের সহজে চেনার জন্য আলাদা পোশাক দেয়া হয়েছে। ডিউটির সময় তাদের সেই পোশাক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু তাই নয় রোগীর সাথে ভিজিটরদের জন্য করা হয়েছে আইডি কার্ডের ব্যবস্থা। ভিজিটররা ওই কার্ড সঙ্গে রাখবেন। এতে তাদের চিনতে সুবিধা হবে।
হাসপাতালের স্টাফরা নিজেরাই যখন দালালির সাথে জড়িত তখন কীভাবে এটা নির্মূল হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। 
তিনি বলেন, অলরেডি আমরা লোক লাগিয়েছি। বিশেষ করে দালালদের পক্ষে কোন বিশেষ চিকিৎসক থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোগী ভাগানোর কাজে যারা জড়িত থাকে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বদলি, এমনকি চাকুরিচ্যুত পর্যন্ত করা হবে।
তিনি বলেন অনেক সময় দেখা যায় কিছু চিকিৎসক আন্তঃবিভাগে রাউন্ড দেয়ার জন্য যায়। সে সময় রোগীরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় দালালরা রোগী ভাগানোর চেষ্টা করে। 
রোগী ও তার স্বজনদের সচেতন করতে অফিস চলাকালীন সার্বক্ষণিক  সাউন্ড বক্সেও মাধ্যমে মাইকিং করা হয় বলে জানান তিনি। রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কাউকে টাকা পয়সা দেবেন না। যে সমস্ত পরীক্ষা হাসপাতালে হয়, সেগুলো বাইরে থেকে করাবেন না।  কোন চিকিৎসক বা তার সহকারী যদি যে পরীক্ষা হাসপাতালে সম্ভব তা বাইরে থেকে করাতে বলে সরাসরি পরিচালকের কাছে এসে বলার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। এছাড়া কারও মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে, তাদের চিহ্নিত করে আমাদের কাছে অভিযোগ দেবেন।
হাসপাতালের ল্যাবেই যাতে পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় সেই কারণে হাসপাতালের প্যাথলজির সময় বৃদ্ধি করেছি। এছাড়া আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য প্যাথলোজিসহ বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারি অর্থ গ্রহণের জন্য আলাদা টাকা জমা ও রিপোর্ট গ্রহণের বুথ বসিয়েছি। এতে হয়রানি ভোগান্তি কম হবে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান নিয়মিত একেবারে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরই অংশ হিসেবে আজ (বুধবার) হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পরিচালক ডাঃ রবিউল হাসানের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক ডাঃ কাইয়ুম তালুকদার, আরএমও সুহাস হালদারসহ আনসার সদস্যরা। উলে­খ্য, মঙ্গলবার সকালে অভিযানের পর এক নারীকে আটক করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ