খুলনা | শুক্রবার | ৩০ জুলাই ২০২১ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

করোনাকালে ঈদুল আযহা

দাঁড়াতে হবে দুস্থ ও আর্ত মানুষের পাশে

|
১২:০৬ এ.এম | ২০ জুলাই ২০২১

আগামীকাল ১০ জিলহজ, ২১ জুলাই বুধবার মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল­াহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে দেশের মুসলমান স¤প্রদায় তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদ্যাপন করছেন। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হচ্ছে মন। কোরবানি শব্দটির অর্থ ত্যাগ ও নৈকট্য। মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি এবং মানবকল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করাই মূলতঃ ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের তাৎপর্য।
প্রায় চার হাজার বছর আগে আল­াহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর ছেলে হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হযরত ইসমাইল (আঃ)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর সেই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম স¤প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল­াহর অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।
কোরবানি মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যাঁদের ওপর জাকাত ওয়াজিব, তাঁদের ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। পশু কোরবানির মাধ্যমে গরীব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। আল­াহর সন্তুষ্টির জন্য স্বার্থত্যাগ, আত্মত্যাগ ও সম্পদত্যাগই হলো কোরবানি। কোরবানি শুধু একটি আনন্দ উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও দর্শন। ঈদুল আযহা আত্মত্যাগের প্রেরণায় উজ্জীবিত এক অনন্য আনন্দ উৎসব। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের এক প্রতীকী আচার এই কোরবানি। ঈদুল আযহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ করা। পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মানুষের ভেতরে থাকা পশুশক্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকেই ত্যাগ করতে হয়। তাই শুধু পশু নয়, প্রয়োজন পশুত্বের কোরবানি। কোরবানিদাতা শুধু পশুর গলায় ছুরি চালান না, তিনি তাঁর সব কুপ্রবৃত্তির ওপরও ছুরি চালিয়ে তাকে নির্মূল করেন। এটাই হলো কোরবানির মূল শিক্ষা। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে এই অনুভূতি অবশ্যই প্রয়োজন।
আজ এমন এক সময়ে ঈদুল আযহা উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে, যখন সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে এ পর্যন্ত ১১ লাখ ১৭ হাজার ৩১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১২৫-তে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই করোনাকালে হারিয়েছেন পুঁজি। অনেকের আত্মীয়-স্বজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। তাঁদের বাড়িতে ঈদের আনন্দ নেই। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বন্যাপীড়িত। করোনার সঙ্গে বন্যা ও বর্ষাজনিত রোগ জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া যেমন আছে, তেমনি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, টাইফয়েডের মতো রোগে ভুগছে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ওই সব এলাকার মানুষের দুঃখকষ্টের কথা স্মরণ করে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরির অঙ্গীকার করতে হবে। বিত্ত-বৈভবের প্রতিযোগিতা ও মহড়া না দেখিয়ে দুস্থ ও দুর্গত মানবতার পাশে দাঁড়ানো এই সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সেবার মানসিকতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে দুস্থ ও আর্ত মানুষের পাশে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ