খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

স্থানীয় দালালসহ সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় খুমেক হাসপাতাল প্রশাসন!

সোহাগ দেওয়ান |
১২:৫০ এ.এম | ২৩ অগাস্ট ২০২২


বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠে এসেছে। আর কর্তৃপক্ষের এ ব্যর্থতার ঘানী টানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রার্থী সাধারণ মানুষের। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী এবং স্বজনরা প্রতিনিয়ত নানা ভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োজিত দালাল সিন্ডিকেটের কাছে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর এ সকল সিন্ডিকেটের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসহায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। হাসপাতালটির শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সেবা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতারাসহ বিশিষ্টজনেরা। এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা একাধিক মানুষের সাথে আলাপকালে এ সকল প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।  
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুরুতর রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে সময়ক্ষেপন করছে সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে প্যাথলজি, বহির্বিভাগ, আন্তঃ বিভাগেও একই চিত্র। হাসপাতালে জনবল সংকটের কারনে এ হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ৩শ’র অধিক অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। তবুও হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ।  
সরেজমিন খুমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় অব্যস্থাপনার চিত্র। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নগরীর একজন সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার কাছে অভিযোগ জানাবো? একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারেনা। কোন ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যে যেভাবে পারছেন দায়সারা ভাবে টাইমপাস করে চলে যাচ্ছেন। 
সোনাডাঙ্গা এলাকার কাজী মোঃ লিটন হোসেন একই ধরনের অভিযোগ করেন। এছাড়া তিনি দাবি করে বলেন, এখানে পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা দেয়া হলে সব কিছু শৃঙ্খলা মোতাবেক চলবে। এতে করে আমরা সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারবো। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। 
লচণচরা থানা এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আত্মীয় স্বজনরা কেউ অসুস্থ হলে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে নানা ভাবে হয়রানিতে পড়তে হয়।   
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, খুমেক হাসপাতালে  চিকিৎসাসেবা সব ধরনের ব্যবস্থা থাকতেও সাধারণ মানুষ হয়রানী অভিযোগ করছেন। এটা অবশ্যই হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে পরিচালক পদে সেনা কমকর্তা নিয়োগ হলে শতভাগ শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেক্টরে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। কোন কারনেই ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থতার জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা কারও জন্য উচিত হবে না।  
তবে এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রবিউল হাসান, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে স্বীকার করতে নারাজ। হাসপাতালের পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের যে দাবি সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান। 
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালের দালাল চক্রের ৩০ জনকে আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছি। তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আাদলতে জেল-জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সরকারি হাসপাতালে যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ছাড়াই চিকিৎসাসেবা নিতে পারে, এজন্য র‌্যাবের নজরদারি থাকবে। এছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে কেউ যদি অভিযোগ দেন, তাহলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ