খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১৬ এ.এম | ২৫ অগাস্ট ২০২২


বিরোধী দল-মতের কেউ প্রার্থী না হলে এবারও খুলনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের প্রতিদ্ব›দ্বী হতে পারে আ’লীগই। সে হিসেবে আ’লীগের অভ্যন্তরে কয়েকজন নেতা জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপর হয়েছেন। দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যেও সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে জানতে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট ইসি সচিব অশোক কুমার দেবনাথ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্রমতে, জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার কেসিসি’র মেয়র, কাউন্সিলরসহ তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা। সে হিসেবে কেসিসি মেয়র, কেসিসি’র সাধারণ ওয়ার্ডের ৩১ জন কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের ১০ জন কাউন্সিলর, ৬৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৯ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ১৮ জন ভাইস-চেয়ারম্যান মিলে ভোটার সংখ্যা ১৩৭। আর জেলা পরিষদের একজন চেয়ারম্যান এবং ১৫টি সদস্য পদে একটি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 
দলীয় সূত্রমতে, জেলা পরিষদের এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায় হাফ ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় উঠেছে। তারা হলেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, নগর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ দেলওয়ারা বেগম, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, নগর আ’লীগের সহ-সভাপতি চেম্বার সভাপতি কাজি আমিনুল হক এবং জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ^াস বাচ্চু। 
গেল নির্বাচনে শেখ হারুনুর রশীদের একমাত্র প্রতিদ্ব›দ্বী জেলা আ’লীগ নেতা অজয় সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। আর আগ্রহী এসব সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দলের মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আ’লীগের মূল প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি’র একাধিক নেতা জানিয়েছেন এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি।
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নগর আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দল যদি মনে করে আমাকে দিয়ে তারা জেলা পরিষদ নির্বাচন করাবেন; সে ক্ষেত্রে আমার তো কোন আপত্তি থাকবে না। আমি রাজনীতি করি, দলের যে কোন সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেন, আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকে নিয়েই কাজ করবো। এখানে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী বলেন, আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজ করবো।
জেলা আ’লীগের সভাপতি বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, আমি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো কি চাইবো না, সেটি নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ডের উপর। দলের হাইকমান্ড যা বলবে সেই ভাবেই আমি আমার কার্যক্রম পরিচালনা করবো। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তেই জেলা আ’লীগের সভাপতি হিসেবে ৬ বার দায়িত্ব পালন করে আসছি। পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি ও করছি। অতএব হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ