খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি

খবর প্রতিবেদন |
০৮:২৫ পি.এম | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২


জুলাইয়ের পর আগস্টেও ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রেমিট্যান্স এসেছে ৪১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১৯ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড ২ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন বা ২০৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলো প্রবাসীরা। জুলাইয়ের চেয়ে আগস্টে রেমিট্যান্স কমলেও গত বছরের আগস্টের তুলনায় বেড়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮১ কোটি ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা দিয়ে আসছে। এতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে অর্থবছরের প্রথম মাসেই রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা। এছাড়া ঈদের মাস হওয়ায় এ মাসে তুলনামূলক বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এসেছে ৭৫ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে এসেছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

এই মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৩ কোটি ডলার। এরপর সিটি ব্যাংকে ১৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকে ১১ কোটি ৪০ লাখ, ডাচ–বাংলা ব্যাংকে ১০ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারে অনিয়ম পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। এর আগেও আমরা ১০ টি টিম মার্কেটে পাঠিয়েছি। আভিযানিক এ টিম ডলার মার্কেটে কিছু তথ্য পেয়েছে যা রুলস রেগুলেশন কাভার করে না। লাইসেন্স নেই এমন প্রতিষ্ঠানও ডলার কেনা-বেচনার সঙ্গে জড়িত, এমন তথ্যও এসেছে। আবার একটি লাইসেন্স নিয়ে দুটি শাখায় ব্যবসা করছে। এমনটি যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

দুই বছরের করোনা মহামারি ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ