খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

ফুটবলার আঁখির বাবাকে থানায় নেওয়ার হুমকি, ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৭ এ.এম | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২


সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলের সদস্য আঁখি খাতুনের বাবাকে থানায় ধরে নেওয়ার হুমকি ও শাসানোর অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ আরিফুর রহমান মণ্ডল (বিপিএম-বার) এ নির্দেশ দেন। এতে শাহজাদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদশক (এএসআই) মামুনুর রশিদ ও কনস্টবল আবু মুসাকে ক্লোজড করা হয়।
পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, নারী ফুটবলার আঁখির বাবার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় অভিযুক্ত এএসআই ও কনস্টেবলকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে সহকারী পুলিশ সুপারকে (শাহজাদপুর সার্কেল) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স¤প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেওয়া খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির দখল নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন হাজী মকরম প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি। ওই মামলায় আঁখিসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার নোটিশ নিয়ে এএসআই মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা তার গ্রামের বাড়ি শাহজাদপুরের পারকোলায় যান। এ সময় আঁখির বাবা আক্তার হোসেনকে নোটিশে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আঁখির বাবাকে পুলিশ শাসায় এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে সহকারি পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) আঁখির বাবার বাড়ি গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ফুটবলার আঁখির জন্য ১ নম্বর খাস খতিয়ানের একটি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স¤প্রতি হাজী মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমিটি তার দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলায় তিনি ওই জমির মালিকানা দাবি করেননি। মামলার তফসিলে খতিয়ানও উলে­খ করেন নি। প্রকৃতপক্ষে আঁখিকে দেওয়া জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। আঁখির পরিবার যাতে ওই জমি না পায়, সেজন্য একটি চক্র এ মামলা দায়ের করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো জমি নিয়ে মামলা হতেই পারে। মামলা দায়েরের পর প্রসিডিওর অনুযায়ী আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পক্ষদ্বয়কে নোটিশ দিতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানে তেমনটাই ঘটেছে।
এর আগে দরিদ্র পরিবারের সন্তান আঁখি খাতুনকে সরকারিভাবে একটি জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিবাদমান জমির বরাদ্দ বাতিল করা হয়।
এর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ শাহজাদপুর পৌর এলাকার দ্বাবারিয়া মৌজায় খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতক জমি তার নামে বরাদ্দ দেন। স¤প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আঁখির বাবা মায়ের হাতে ওই জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ