খুলনা | মঙ্গলবার | ০৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

গোপন শিরক থেকে বেঁচে থাকা দূরহ ব্যাপার

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী |
০২:১৫ এ.এম | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২


শিরকের গোনাহ অমার্জনীয়। আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে শিরক ও কুফরির বীজ। শিরকের বিষাক্ত ধোঁয়া গ্রাস করছে তাওহীদের ঘর, মুসলমানের অন্তরকে। শিরকের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে শিরককে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। শিরকে আকবার বা বড় শিরক এবং শিরকে আসগর বা ছোট শিরক। ছোট শিরক আবার গোপন শিরক নামেও পরিচিত। 
ছোট শিরক প্রধানত দুই প্রকারের হয়ে থাকে। প্রথম প্রকার: এ প্রকারের শিরক কথা ও কাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যেমন; মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম ও শপথ করা। এক হাদিসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেন “যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কসম করল, সে কুফুরী কিংবা শিরক করল’ (তিরমিযী, মুসতাদরাক হাকিম)। অনুরূপভাবে এমন কথা বলা যে, আল্লাহ এবং তুমি যেমন চেয়েছ। কোন এক ব্যক্তি মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লামকে “আল্লাহ এবং আপনি যেমন চেয়েছেন” কথাটি বললে তিনি বললেন, “তুমি কি আমাকে আল্লাহর সাথে সমকক্ষ স্থির করলে? বরং বল, আল্লাহ এককভাবে যা চেয়েছেন” (নাসায়ী)। আর কাজের ক্ষেত্রে ছোট শিরকের উদাহরণ হলো, এরূপ বিশ্বাস করা যে সুতা, তাগা বাঁধা, তাবিজ-কবজ ইত্যাদি রোগ সারাতে পারে ও বিপদাপদ দূর করতে পারে। এসব ব্যাপারে যদি এ বিশ্বাস থাকে যে, এগুলো বলা-মসীবত দূর করার মাধ্যম ও উপকরণ, তাহলে তা হবে শিরকে আসগর। কেননা মহান আল্লাহপাক এগুলোকে সে উপকরণ হিসেবে সৃষ্টি করেননি। তবে কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে ঝাঁড়-ফুঁক করা জায়েজ আছে, যা একটি স্বতন্ত্র বিষয়।  দ্বিতীয় প্রকার: গোপন শিরক হলো শিরকে আসগর বা ছোট শিরকের আর একটি ধরণ। এ প্রকার শিরকের স্থান হলো ইচ্ছা, সংকল্প ও নিয়তের মধ্যে। যেমন লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ও প্রসিদ্ধ অর্জনের জন্য কোন আমল করা। এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি লোক দেখানো নামায পড়ল সে শিরক করল, সে লোক দেখানো দান করল সে শিরক করল, যে লোক দেখানো রোযা রাখল সে শিরক করল। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করা যায় এমন কোন কাজ করে তা দ্বারা মানুষের প্রশংসা লাভের ইচ্ছা করা। যেমন সুন্দরভাবে নামায আদায় করা, কিংবা সদকা করা এ উদ্দেশ্যে যে, মানুষ তার প্রশংসা করবে, অথবা স্ব শব্দে জিকির-আযকার পড়া ও সুললিত কণ্ঠে তিলাওয়াত করা যাতে তা শুনে লোকজন তার গুণগান করে। যদি কোন আমলে রিয়া তথা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য সংমিশ্রিত থাকে, তাহলে আল্লাহপাক তা বাতিল করে দেন।  রাসুলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এরশাদ করেনঃ “তোমাদের উপর আমি যে জিনিসের ভয় সবচেয়ে বেশী করছি তা হল শিরকে আসগর। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! শিরকে আসগর কি? তিনি বললেনঃ রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা” (আহমদ, ইবনে মাজাহ)। পার্থিব লোভে পড়ে কোন আমল করাও এ প্রকার শিরকের অন্তর্গত। যেমনঃ কোন ব্যক্তি শুধু মাল-সম্পদ অর্জনের জন্যেই হজ্জ্ব করে, কিংবা শরয়ী জ্ঞান অর্জন করে বা জিহাদ করে ইত্যাদি।  
পরিশেষে একটি কথা মনে রাখতে হবে, শিরকে আসগর বান্দাকে যদিও ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দেয় না, তবে তার ঈমান ও আক্বীদায় ত্র“টি ও কমতির সৃষ্টি করে। শিরকে আসগর বা ছোট শিরক ধীরে ধীরে বান্দাকে শিরকে আকবারে লিপ্ত করে সর্বনাশ ঘটাতে পারে। যেমনঃ ছোট আগুন থেকে বড় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন এবং সব ধরণের শিরক থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন। 
লেখক : মৎস্য-বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ

ইসলাম

প্রায় ১৫ দিন আগে