খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

জেলা পরিষদ : সুন্দর পরিবেশে ভোট হোক প্রত্যাশা সকলের

|
০১:০৭ এ.এম | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২


দেশজুড়ে আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ভোটার হলেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। প্রশ্ন উঠেছে, এই নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ২২ জেলায় একক প্রার্থী থাকায় ইতোমধ্যেই তারা বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ ২২ জেলায় নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হয়নি। বাকি জেলাগুলোয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ইতোমধ্যেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনে ভোটার না হয়েও প্রভাব বিস্তারে মাঠে নেমেছেন সংসদ সদস্যরা। বিদ্যমান আইনে বলা আছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য বা মন্ত্রী নিজ এলাকায় গিয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে বা নির্বাচনি কাজে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু নির্বাচনি কাজে অংশগ্রহণই নয়, তাদের ব্যবহৃত কোনো সরকারি যানবাহন বা অন্য কোনো বস্তুও প্রার্থীর কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ নির্বাচনের ভোটার যেহেতু স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগ দলীয় ব্যক্তি, তাই তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন সংসদ সদস্যরা। বলা বাহুল্য, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং থাকছে না লেভেল প্লেয়িং মাঠ।
সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে একাধিক। নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন তারা। কোনো জেলায় যাতে স্থানীয় এমপি বা মন্ত্রী অথবা প্রভাবশালী কেউ ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি রাখছেন তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, তাদের এসব কথার কোনো প্রতিফলন নেই মাঠে। অনেক জেলায় ইতোমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ভোটারদের নিয়ে সভা করেছেন। এক কথায়, প্রকাশ্যে অথবা গোপন সমাবেশে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন তারা। 
নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামীকাল ২৬ সেপ্টেম্বর। এর আগেই সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। নির্বাচনের অব্যহিত আগে তারা যে বড় ধরণের আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন, তা অনুমান করা যায়। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি মোটেও সুখকর নয়। নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে, সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে বিশেষভাবে আমলে নিয়ে সেগুলোর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। এমনিতেই নির্বাচন কমিশনের ওপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা নেই। আস্থার এই সংকট আরও ঘনীভূত হলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে তারা আরও অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতিও আমাদের আহŸান থাকবে, তারা যেন জেলা পরিষদ নির্বাচনটিকে বিতর্কিত না করেন। আগামী সাধারণ নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়, সেজন্য তাদের উচিত সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক, এটাই সবার প্রত্যাশা।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ