খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

দেশে ৯০ ভাগ শিশু সহিংসতার শিকার সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে

|
১২:১৩ এ.এম | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২


আজকের শিশুই দেশের ভবিষ্যৎ এ কথা মাথায় রাখতে হবে। শিশুর প্রতি সহিংসতা বা নির্যাতন সাময়িক কোনো বিষয় নয়, এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলও আছে। শিশুরা যদি সঠিকভাবে বেড়ে ওঠে, সেটা যেমন দেশের জন্য মঙ্গলকর, তেমনি শিশুরা সহিংসতা বা নির্যাতনের শিকার হলে তা নানা রকম নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। দেশের ৯০ শতাংশ শিশু নিয়মিত বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে একটি সম্মেলনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ কোটি ৭০ লাখের কাছাকাছি শিশু রয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে ১৪ বছরের নিচের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিশু বাড়িতে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হয়। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে ৯টি শিশুই সহিংসতার শিকার। সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সপ্তাহে ২০টি শিশু মারাও যায়। ইইউ ও ইউনিসেফের তথ্যের বরাতে গণমাধ্যমের খবর জানাচ্ছে, সা¤প্রতিক বছরগুলোয় শিশুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি হলেও সহিংসতা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে উদ্বেগজনকভাবে।
বাংলাদেশে ৩০ লাখের বেশি শিশু শিশুশ্রমের ফাঁদে আটকে আছে, যার মধ্যে ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে একটি শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার আগেই শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ে। প্রতি দু’টি মেয়ে শিশুর মধ্যে একটির বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়। প্রায় অর্ধেক শিশুর জন্মনিবন্ধন নেই। এখনো লাখো শিশু রাস্তায় বসবাস করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে শিশুদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষায় পর্যাপ্ত আইন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে প্রচলিত আইনের বাস্তবায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ ছাড়া শিশুর উন্নয়ন ও কল্যাণে বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটে শিশুদের জন্য সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। 
একটা রাষ্ট্র-সমাজ কতটা মানবিক, কতটা সংবেদনশীল, তা অনেকটাই বোঝা যায় শিশুদের প্রতি আচার-আচরণ, বিবেচনাবোধ এবং গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি থেকে। আমরা যদি সত্যিই একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে শিশুদের প্রতি সব ধরণের সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ