খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

কিশোর গ্যাং ঠেকাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

|
১২:০২ এ.এম | ০১ অক্টোবর ২০২২


দেশজুড়ে সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে কিশোর গ্যাং কালচার। দেশের প্রধান শহরগুলোয় কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। তারা এতটাই বেপরোয়া যে, পাড়া-মহল­ায় ভীতিকর পরিবেশে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই থেকে শুরু করে খুন পর্যন্ত করছে।
কিশোর গ্যাং কালচারের কথা প্রথম উঠে আসে ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি উত্তরায় নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান হত্যা ঘটনার মধ্য দিয়ে। এ হত্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসে উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের চিত্র। তার পর থেকে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের অপকর্ম। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, স¤প্রতি কুমিল­া মহানগর ও জেলায় গড়ে ওঠা ২৫টিরও বেশি কিশোর গ্যাংয়ের নিত্যদিনের কর্মকান্ড। গত তিন বছরে তাদের হাতে ১০ জনের মতো খুন ও আহত হয়েছেন শতাধিক। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে। তবে মামলার অধিকাংশ আসামিই জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, অধিকাংশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় ‘বড় ভাই’খ্যাত নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ ‘বড় ভাই’দের কারণেই তাদের বাড়াবাড়ি। বিশেষ করে বখাটে কিশোর ও শিক্ষার্থীদের এ ‘গ্যাং কালচার’কে শক্তি ও বল প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বড় ধরণের কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে ভয় পায় না তারা। প্রশ্ন হচ্ছে, বড় ভাইয়েরা কেন তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতের কর্তধারকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে জাতি গঠনে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। আর ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব যেন না থাকে, এ জন্য সচেতন হতে হবে। এই হীন কালচারের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে কিশোররা মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে যাতে জড়িত হতে না পারে, এ জন্য সামাজিকভাবে ও গণমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
ইতোমধ্যে বড় বড় অঘটন বখাটে কিশোররা ঘটিয়ে ফেলেছে। আর ছোটভাবে দেখার সুযোগ নেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সমাজ অস্থির হয়ে উঠবে। আগামী প্রজন্ম রক্ষা করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনে সোচ্চার হতে হবে। এতে সমাজ থেকে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রিত হবে বলে বিশ্বাস করি আমরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ