খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

খাদ্য-সারে বাড়তি ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের বোঝা ৪৮ দেশের

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩৯ পি.এম | ০১ অক্টোবর ২০২২


ইউক্রেন যুদ্ধ বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সরবরাহে বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তায় যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে, তা অন্তত ২০০৭-২০০৮-এর বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার পর আর দেখা যায়নি। এতে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে। আর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হিসাবে, বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ক্ষুধার্ত পেট নিয়েই ঘুমাতে যায়।

রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে খাদ্য ও সারের দাম হঠাৎ করে লাফ দিয়ে বেড়েছে। এতে চরম খাদ্যসংকটে পড়েছে ৪৮টি দেশ, যার মধ্যে বাংলাদেশও আছে। আইএমএফের নতুন এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এসব দেশকে চলতি বছর ও আগামী বছর মিলে মোট ৯০০ কোটি ডলারের বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে হবে। আর সেটা করতে গিয়ে মহামারির আঘাত ও বাড়তি জ্বালানি ব্যয় বহনের পর এমনিতে লেনদেনে ভারসাম্যের সংকটে পড়া নাজুক ও সংঘাতপূর্ণ অনেক দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয় হবে।

খাদ্যের দাম কোথাও কোথাও চূড়ায় উঠে সম্প্রতি কিছুটা কমেছে। তার পরও অনেক জায়গায় খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতি স্বভাবতই দারিদ্র্য বাড়াবে, প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।

‘ট্র্যাকিং দ্য গ্লোবাল ফুড ক্রাইসিস’ শিরোনামে আইএমএফের গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্যসংকটে ভুগতে থাকা এই ৪৮ দেশের মধ্যে অনেকগুলো দেশের মাথাপিছু আয় খুবই কম এবং দারিদ্র্য ব্যাপক; আর অনেকগুলো দেশে সংঘাতময় ও ভঙ্গুর। এমন পরিস্থিতি যেকোনো দেশের জনগোষ্ঠীর ওপর উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রভাবকে বহুগুণে বাড়াতে পারে। সেটা মোকাবিলা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘের হিসাবে, বাংলাদেশ খাদ্যসংকটে পতিত দেশ। লেনদেনের ভারসাম্যে খাদ্য ও সারের মূল্যবৃদ্ধির যে প্রভাব পড়বে, তা চলতি বছর জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হবে।

খাদ্যের সংকট সবর্ত্রই অনুভূত হচ্ছে। চরম ভোগান্তিতে থাকা এই ৪৮ দেশ মূলত ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানির ওপর চরম নির্ভরশীল, যেগুলোর বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের দেশ। এর অর্ধেক দেশ মারাত্মক অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও ভঙ্গুর পরিস্থিতির কারণে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 
এমন পরিস্থিতিতে শুধু এ বছর সবচেয়ে সংকটাপন্ন দেশগুলোর দরিদ্রতম মানুষদের টিকে থাকতে সহায়তার জন্য ৭০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দরকার হতে পারে বলে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন।

ডব্লিউএফপিসহ অন্যান্য সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা শিগগির বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দরিদ্র মানুষদের সহায়তায় লক্ষ্যাভিমুখী আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। তবে সবার আগে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানায় মনোযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

খাদ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গমের দর ৯ শতাংশ বৃদ্ধিতে দায়ী বলে বিশ্বব্যাংকের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছেন।

শস্য উৎপাদন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন চলমান খাদ্যসংকট মোকাবিলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি খরাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও শস্যবিমা চালুর ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

এসব নীতিগত সুপারিশের পাশাপাশি খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দুর্বল দেশেগুলোর জন্য এক বছর বাজেট সহায়তা হিসেবে ‘ফুড শক উইনডো নামে নতুন তহবিল’ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ইউক্রেনকে বাড়তি সহায়তা হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
সূত্র : আজকের পত্রিকা অনলাইন

প্রিন্ট

আরও সংবাদ