খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

অর্ধশত চিকিৎসক ও সেবিকা যোগদান করছেন আজ

খুলনা করোনা হাসপাতালে একশ’ শয্যার দ্বিতীয় ইউনিট চালু হচ্ছে শিগগিরই

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৩৬ এ.এম | ১৩ জুন ২০২১

মহামারী করোনার হটস্পট এখন খুলনা, সংক্রমনে দেশের শীর্ষে। রোগীর চাপ কমাতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একশ’ শয্যার দ্বিতীয় ইউনিট চালু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্য হাসপাতাল থেকে আজ যোগদান করছেন অর্ধশত চিকিৎসক ও সেবিকা। এছাড়া নতুন আরেকটি অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল পরিচালনা করছেন খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরনো গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগকে ঘঁষে মেজে পরিষ্কার করা হয়েছে। বসানো হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন। এছাড়া আনুষঙ্গিক কাজ চলছে।
১০০ শয্যা করোনা হাসপাতালের প্রথম ইউনিটে জুন মাস থেকেই রোগীর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪০ জনের অধিক রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে করোনার দ্বিতীয় ইউনিট।
করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের মুখপাত্র ডাঃ সুহাষ রঞ্জন হালদার জানিয়েছেন, আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে চেষ্টা করছি করোনা হাসপাতালে দ্বিতীয় ইউনিট চালু। ইতোমধ্যে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রেষনে এখানে নিয়ে আসার আদেশ হয়েছে। লজিস্টিক সাপোর্টেরও কাজ চলছে। অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ হলেই চালু করা যাবে।
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রবিউল হাসান শনিবার জানান, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে খুলনা করোনা হাসপাতালে বিদ্যমান ১০০ শয্যার সঙ্গে আরও ৩০টি শয্যা চালু করা হয়েছে। খুমেক হাসপাতালের সাবেক গ্যাস্ট্রোঅ্যান্টোলজি বিভাগে নতুন করে ৩০টি শয্যা করা হচ্ছে। তার কাজও আজ (শনিবার) শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডেপুটেশনে এখানে ১০ জন চিকিৎসক ও ৪০ নার্স নিযুক্ত করেছেন। শনিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়া গেছে। তারা রবিবার যোগদান করবেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে করোনা হাসপাতালকে ১৬০ শয্যায় উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিচালক আরও জানান, করোনা রোগীদের জন্য স¤প্রতি নতুন আরেকটি অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই প্লান্টটি বসাতে ৮-১০ দিন সময় লাগতে পারে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ রাশিদা সুলতানা জানান, ইতোমধ্যে অন্য হাসপাতাল থেকে ১০ জন চিকিৎসক ও ৪০জন সেবিকাকে করোনার দ্বিতীয় ইউনিটে নিয়ে আনা হয়েছে। রবিবার (১৩ জুন) কর্মস্থলে যোগদান করবেন তারা। এজন্য দ্রুততম সময়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
করোনার দ্বিতীয় ইউনিটে প্রেষণে আসা চিকিৎসকরা হলেন, ঝিনাইদহের শৈলকুপার ইদেমপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ মাহবুব আলম, কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসরাত জেরিন, ঝিনাইদহ সদরের নলডাঙ্গা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ মোঃ তালাত তাসমিমা, নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ শামস ইবনে করিম, কালিয়ার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ রোশিনী খানম, কুষ্টিয়া সদরের জগতি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইনজামুল হক, মেহেরপুরের গাংনীর ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ডাঃ মোঃ হামিদুল ইসলাম, রংপুর সিভিল সার্জন অফিসের সহকারী সার্জন ডাঃ নাহিদা ইয়াসমিন মিতু, মাগুরা সিভিল সার্জন অফিসের সহকারী সার্জন ডাঃ সাগর সৈকত বিশ্বাস। তাছাড়াও খুলনার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল থেকে ৪০ জন নার্সকে নিয়ে আসা হচ্ছে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিটে।
 

প্রিন্ট