খুলনা | রবিবার | ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

ধর্ষণ ও উত্ত্যক্ততার শিকার কন্যা শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে

|
১২:১৮ এ.এম | ২১ নভেম্বর ২০২২


বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন চিত্র ২০২১ঃ ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি ও যৌতুক’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় যে চিত্রটি উঠে এসেছে তা রীতিমতো ভয়াবহ। নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর যৌতুক, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চেষ্টা এই পাঁচটি বিষয় বিবেচনায় রেখে ২০২১ সালে দেশের ১২টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে করা সমীক্ষায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, দেশে কন্যাশিশুদের মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ৪৫ শতাংশ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, ৫২ শতাংশ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং ৬৭ শতাংশ উত্ত্যক্ততার শিকার হয়েছে। আগের বছরগুলোর মতো গত বছরও নারীদের চেয়ে কন্যাশিশুরা বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ বছর ১৪ থেকে ১৮ বছরের কন্যাশিশুরা ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে যথাক্রমে ১৮, ১১ ও ৩১ শতাংশ। ১০ থেকে ১৩ বছরের কন্যাশিশু উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২২ শতাংশ। আর ১৮ থেকে ২২ বছরের নারীরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সমীক্ষায় পাওয়া চিত্রটি আমাদের শুধু যে নতুন করে ভাবাচ্ছে তা নয়, পুরো সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। দিন দিন এই সমাজ কোথায় যাচ্ছে? কোন ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছি আমরা? মানুষ আলোকিত দিনের অপেক্ষায় থাকে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজও আলোকিত হবে। মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ বাড়বে। এটাই তো কাক্সিক্ষত। দেশে শিক্ষিতের হার বেড়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কাক্সিক্ষত মানবিক উন্নয়ন কি হয়েছে?
আমাদের সমাজ তো এমন ছিল না। পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সহনশীল সমাজের পরিচয় কেন পাল্টে যাচ্ছে? মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় কেন চরমে পৌঁছেছে। নৈতিকতাও যেন নির্বাসিত প্রায়। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন জাতীয় সংসদে পাস হলেও এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলেনি। ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত হত্যা কমেনি। এ ধরণের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে সেই কারণগুলো দূর করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ তো নিতে দেখা যায় না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের দুর্বলতায় অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে বলেও অভিযোগ শোনা যায়। মূল্যবোধ নষ্ট হওয়ার প্রভাব পড়ছে সমাজে। দুর্বৃত্তরা সমাজকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে। এই তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সব ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ