খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ৯৯৯’র আরও প্রচারণা দরকার

|
১২:১১ এ.এম | ২৮ নভেম্বর ২০২২


নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার ২০১৭ সালে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাওয়া ও অভিযোগ করার যে কর্মসূচি চালু করেছিল, তা থেকে ভুক্তভোগীরা সুফল পেয়েছেন, যদিও তা কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয়। এর আগে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে ভুক্তভোগীকেই থানা-পুলিশের কাছে ছুটতে হতো প্রতিকারের আশায়। কিন্তু তাৎক্ষণিক সহায়তা চাওয়া ও অভিযোগ করার জন্য এখন কাউকে থানা-পুলিশে যেতে হয় না। ৯৯৯ নম্বরে একটি টেলিফোন করলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে এসে সরেজমিনে পরিস্থিতি অবলোকন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু হওয়ার পর থেকে এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ৬৪টি জেলা, ৮টি মহানগরসহ মোট ৭২টি এলাকা থেকে আসা অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছে ‘৯৯৯’। সারা দেশ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় এমন তাৎক্ষণিক সাহায্য চাওয়া ও অভিযোগ করার ঘটনা ঘটছে। গত পাঁচ বছরে ৯৯৯ এ এমন কল এসেছে প্রায় ৪২ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা থেকে অভিযোগ এসেছে সবচেয়ে বেশি। ১২ ধরণের নির্যাতনের ঘটনায় গত পাঁচ বছরে ঢাকা জেলা থেকে তাৎক্ষণিক সাহায্য চেয়ে ও অভিযোগ জানিয়ে কল এসেছে ১০ হাজারের বেশি, যা সারা দেশ থেকে ৯৯৯ এ আসা মোট কলের ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ কলই ঢাকা মহানগরের। পাঁচ বছরে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে কল এসেছে সবচেয়ে কম, মাত্র ১৭০টি।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যা, নির্যাতন, স্বামীর নির্যাতন, মা-বাবার নির্যাতন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, যৌন নির্যাতন এবং অ্যাসিড-সহিংসতা। এ অভিযোগগুলোর মধ্যে অনেকগুলো তাৎক্ষণিক সাহায্য প্রার্থনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, মামলা পর্যন্ত গড়ায় না। অভিযোগগুলোর মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতন প্রায় সাড়ে ১০ হাজার, উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি ৫ হাজার, ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার।
এতে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাওয়া ও অভিযোগ করার ঘটনা অপেক্ষাকৃত বেশি। এর কারণ ঢাকার বাইরের, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা সুযোগটি সম্পর্কে তেমন অবহিত নন। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তারের মতে, নারীর প্রতি প্রকৃত নির্যাতনের ঘটনা এর চেয়েও বেশি। ঢাকাসহ শহর এলাকায় নির্যাতনের শিকার হলে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে যতটা সচেতনতা এসেছে, গ্রামাঞ্চলে তা হয়নি। অনেক নির্যাতনের ঘটনা শালিসেই শেষ হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে সুযোগটি সম্পর্কে শহরের বাইরে বিশেষ করে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে বেশি বেশি করে জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন যেমন অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে, তেমনি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও প্রচারের কাজটি করা যেতে পারে। 
অনেক সংস্থা-সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও দিবস পালনের কথাও মুঠোফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে জরুরি বার্তাটি পাঠাতেও এই মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ-ও মনে রাখতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ৯৯৯ এর টেলিফোন করাই যথেষ্ট নয়। ৯৯৯ এ টেলিফোন করার পর ভুক্তভোগী যাতে প্রতিকার পান, সে জন্য আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। প্রভাবশালী ও অর্থের কাছে প্রায়ই আমরা আইনকে অকার্যকর হতে দেখি। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে অপরাধীদের উপর্যুক্ত শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক জাগরণ তৈরি করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ