খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানের সুফল নেই

খুলনায় দিব্যি চলছে বন্ধ হওয়া ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক!

বশির হোসেন |
১২:৫৬ এ.এম | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২


মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে বেশ ঘটা করেই অভিযান চালায় খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৭ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। ওই চারদিনে নগরীর সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠান কাগজে বন্ধ থাকলেও মাত্র দুই মাসের মাথায় সবগুলো ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিব্যি আগের মতই চলছে। পরিবর্তন আসেনি আচরণেও; এখনও বিভিন্ন পরীক্ষার নামে করছে প্রতারণা আর ঠকছেন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নিরীহ মানুষ। 
বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ধরে নগরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো ঘুরে দেখা যায়, সবগুলোই চালু রয়েছে। বন্ধের তালিকায় থাকা শান্তিধাম ল্যাব কেয়ার কনসালটেশন সেন্টারের অবস্থান নগরীর শান্তিধাম মোড়ে। পুরনো একটি ভবনের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, রিসিপশনিস্টের টেবিলে খুলনার খ্যাতনামা চিকিৎসকদের ভিজিটিং কার্ড সাজানো আছে। প্রবেশের সঙ্গেই দু'জন বললেন, কী পরীক্ষা করবেন। বিশেষ ছাড়ে টেস্ট করার প্রস্তাবও দেন তাঁরা। 
নগরীর শামসুর রহমান সড়কেই ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থান। বন্ধের তালিকায় ছিল এটিও। ভেতরে গিয়ে রক্ত ও বুকের এক্সরে করাব জানালে রিসিপশনে থাকা এক নারী জানালেন, এখানে রক্ত পরীক্ষা করা যাবে, এক্সরে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করে দেবেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শনের পর বন্ধের নির্দেশনা ছিল কিনা জানতে চাইলে নাসরিন আকতার নামের ওই নারী দাবি করেন, কেউ আসেনি। বন্ধের কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি।
বন্ধের তালিকায় থাকা বয়রা সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবস্থান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে। রোগী দেখেই ছুটে আসেন কয়েক ব্যক্তি। ওই রোগীর সঙ্গে ডায়াগনস্টিক স্টোরের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, রিসিপশনসহ প্যাথলজি বিভাগে নারী কর্মীরা বসে ছিলেন।
পাশেই বন্ধের তালিকায় থাকা আরেক প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্স ক্লিনিক্যাল আল্ট্রাসাউন্ড। এক্স-রে করা যাবে কিনা শুনতেই কয়েকজন প্রতিবেদককে ভেতরে নিয়ে যান। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে তখন বেশ কয়েকজন রোগী ছিলেন। 
নগরীর ছোট বয়রা কলাবাগান এলাকায় বেল ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এটিও খোলা এবং কার্যক্রম চলছে আগের মতোই। রিসিপশনে থাকা এক নারী দাবি করেন, বন্ধের কোনো নোটিশ তাঁরা পাননি। 
নগরীর হাজি মহাসিন রোডে এক্সপার্ট স্যাম্পল ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে আগের মত। 
স্বাস্থ্যের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিধামে ল্যাব কেয়ার, বয়রা সেন্ট্রাল ও রেডিয়েন্সের অনুমোদন নেই। অনুমোদনের জন্য কোনো আবেদনও করেননি তারা। ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনেক আগে অনুমোদন ছিল। এখন সেখানে মানসম্মত কিছুই নেই। বেল ভিউ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদনের আবেদন করেছে, কিন্তু সেখানেও নানারকম ঘাটতি দেখা যায়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ রেখে ঘাটতি পূরণ করতে বলা হয়।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ হারুণ অর রশীদ বলেন, বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালুর বিষয়ে কোন লিখিত পত্র দেয়া হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। শোকজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জবাব দিয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার কথা না । খোঁজ নিয়ে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠান চালু হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ