খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

মাওলা বকস |
০১:১০ এ.এম | ০৩ ডিসেম্বর ২০২২


১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ও দেশবাসীর মনোবলকে উদ্দীপ্ত করতে স্বাধীন বাংলাবেতার কেন্দ্র অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছিল বাঙালি জাতির জন্য এটা দিক নির্দেশনাসহ গোটা মুক্তিকামী জনতার কাছে অনুপ্রেরণার অংশ। বাংলাদেশর ইতিহাসে তাদের অবদান স¦র্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরদিন।
আজ ৩ ডিসেম্বর ৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনীর একের পর এক হামলায় পাক হানাদারেরা তখন দিশেহারা। এই মাসের শুরুর দিক থেকে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। মুক্তিবাহিনীর সাথে পেরে উঠতে না পেরে পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, নির্যাতন বাড়িয়ে দিল আগের চাইতে বেশি পরিমাণে।
১৯৭১ সালের এই দিনে ভারতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর উপর। উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারতের মধ্যেকার যুদ্ধ বলে চালিয়ে দিয়ে জাতিসংঘের কাছ সুবিধা আদায় করা। তারা চেয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আদায়। পাকিস্তান চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধকে যদি দুই দেশের মধ্যেকার যুদ্ধ হিসেবে দেখানো যায় তাহলে জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার জন্য উভয়পক্ষকে বাধ্য করবে এবং উভয় দেশে পর্যবেক্ষক নিযয়োগ করবে। আর এতে করে পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশের মাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। এই উদ্দেশ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই দিন বিকেলের দিকে ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোর্ট, শ্রীনগর, অবনত্মীপুর, উত্তরালই সহ দিলি­র কাছাকাছি আগ্রার বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। ভারতের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর এই হামলা পরিপ্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১১টায় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের উপর পাল্টা হামলা চালায় এই দিনে। 
এদিনে তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন জানায়, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে যেকোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তারা ভেটো দিবে।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা শত্র“মুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় পাক হানাদার বাহিনী পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। বরগুনাকে শত্র“ মুক্ত করায় হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা বিজয় মিছিল সহকারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে অভিনন্দন জানায়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ