খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

সর্বত্র বহিরাগতদের আধিপত্য খুমেক হাসপাতালে

খুলনার স্বাস্থ্যসেবায় চলছে টেন্ডার সন্ত্রাস!

সোহাগ দেওয়ান |
০১:০২ এ.এম | ১৮ জানুয়ারী ২০২৩


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারনে নানা ভাবে হয়রানি হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে এ অভিযোগ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ বেসরকারি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল শ্রেণির খপ্পরে প্রতিনিয়ত সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বছর জুড়ে র‌্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে না। এছাড়াও এ হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সরকারি বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজেও জবর দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও টেন্ডারবাজির মতো ঘটনাও ঘটছে। খুলনার সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যখাতের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনসহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবিও বেশ আগে থেকে রয়েছে।  
সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাউন্ট কর্মকর্তার কক্ষে আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগের সিডিউল বিক্রি চলছিলো। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দু’জন প্রতিনিধি (দরপত্র) ক্রয় করতে আসেন। এ সময় ওই কক্ষের সামনে আশে-পাশে বেশ কয়েকজন বহিরাগত যুবক উপস্থিত ছিলেন। 
এর আগে ১৫ জানুয়ারি সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তকদ্বির এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সিডিউল ক্রয় করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে ফিরে যান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেখানে গণমাধ্যম কমীদের উপস্থিতি দেখে টেন্ডার সন্ত্রাসের সাথে জড়িতরা নিরব ভূমিকায় ছিলেন। 
খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রবিউল হাসান স্বাক্ষরিত ওই দরপত্রে ৬৭ জন ক্লিনার ও ৩৩ জন সিকিউরিটি গার্ড সরবরাহের জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহŸান করা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে দরপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে যা শেষ হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং ২৪ জানুয়ারি বেলা ১১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ও সেদিনই দুপুর ১২টায় দরপত্র বাক্স খোলার কথা উলে­খ রয়েছে। 
তবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মাত্র ৬টি সিডিউল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র ক্রয়ে সন্ত্রাসীদের বাধার অভিযোগ এর অন্যতম কারণ। এছাড়া দরপত্র দাখিলের দিন সেখানে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পেতে সহায়তার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অন্যান্য ঠিকাদাররা। 
এ বিষয়ে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রবিউল হাসান বলেন, একজন ঠিকাদারের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় থানাকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত হাসপাতাল এলাকায় এসে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন। আগামীতে দরপত্র দাখিলের ও খোলার তারিখেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য সব প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ