খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

প্রাথমিকে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদল অপরিকল্পিত পদক্ষেপ কাম্য নয়

|
১২:০৭ এ.এম | ২৪ জানুয়ারী ২০২৩


শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। জাতিকে বা দেশের উন্নয়ন করতে প্রথমে প্রয়োজন হয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে টেকসই করা। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগি মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এবার তিনটি শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালে বাকি শ্রেণিগুলোতে তা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এ কর্মযজ্ঞ যে শিক্ষকরা বাস্তবায়ন করবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা দরকার। শিক্ষকদের কতজন এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য উপর্যুক্ত, এটাও এক প্রশ্ন।
সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির বাস্তবায়নে শিক্ষকরা যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিবেচনায় নিলে দেশে বিদ্যমান শিক্ষকদের দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় জাগে। চলতি বছর নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবই দেওয়া হয়েছে প্রথম শ্রেণিতেও। গত বছর এ বইয়ের পাইলটিং হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বস্তুত বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে শিক্ষকদের; উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের।
এক গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের একটি বড় সমস্যা হলো পঞ্চম শ্রেণি শেষ করেও বহু শিশু শিক্ষা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা আয়ত্ত করে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এ সমস্যাকে বিশ্বব্যাংক ‘শিক্ষা দারিদ্র্য’ বলে অভিহিত করেছে। এমন বাস্তবতায় নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে যাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রয়াজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
স¤প্রতি নতুন করে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন দেশের ৩০ বিশিষ্ট নাগরিক। বিভিন্ন সময়ে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছিল, এ ধরনের পরীক্ষার কারণেই নোট-গাইড ও কোচিং ব্যবসা স¤প্রসারিত হয়। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রাথমিকের বৃত্তি নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তা সুশীল সমাজের আশঙ্কার সঙ্গেও মিলে যায়। আগামীতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে শিক্ষকদের দায়িত্বের পরিধি বাড়বে। যেসব শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের মোহ থেকে মুক্ত হতে পারছেন না, তারা কতটা নির্মোহভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতাকে পছন্দের শীর্ষে রাখেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দুর্গম চরের শিক্ষার্থীদেরও নতুন শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব হবে। শিক্ষা খাতে যতই বিনিয়োগ বাড়ানো হোক, যতই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হোক-এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নীতি-নৈতিকতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়, যদি দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ