খুলনা | শনিবার | ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | ২২ মাঘ ১৪২৯

নগর ও জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে শেখ হেলাল

আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আ’লীগ ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে চায়

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:০৯ এ.এম | ২৫ জানুয়ারী ২০২৩


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘বিএনপি সব সময় মিথ্যাচারের রাজনীতি করে। বর্তমান সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক বক্তব্য ও সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অগণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের নামে মাঠে নামলে খুলনায় যুবলীগের নেতৃত্বে রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আর সহজে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। দেশের মানুষ আগুন সন্ত্রাসীদের আর চায় না। আগামী জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুবলীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে রাজপথে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। ওদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। জাতির জনকের কন্যা সফল রাষ্ট্ররায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ বুঝে গেছে দেশের সার্বিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকারের কোনো বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আওয়ামী লীগ ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে চায়। এমপি বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করে সবাই একই পরিবারের সদস্য। এজন্য সবাই একসাথে মিলেমিলে দলের জন্য কাজ করতে হবে।’        
গতকাল মঙ্গলবার দুপরে নগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ি মোড়ে জেলা ও মহানগর যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা, ফেস্টুন এবং বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুবলীগের চেয়রম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। 
সম্মেলনের উদ্বোধক যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘বিএনপি প্রোপাগান্ডার রাজনীতি করে। ওরা সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকতে চায়। সত্য দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে। বিএনপি অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক পন্থা পছন্দ করে। এজন্য তাদের কেউ বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, বিভ্রান্তি আর প্রোপাগান্ডার রাজনীতি করে কোনো লাভ হবে না। রাজনীতির গুণগতমানে ধ্যান দেন। ক্ষমতার লোভের অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৯২ জন নেতা-কর্মীকে পেট্রোল বোমা মেরে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঢাকার যাত্রাবাড়ি নয় জন নেতা-কর্মীকে বোমা মেরে হত্যা করেছে।’  
যুবলীগের চেয়ারম্যান বলেন, যারা পেট্রোল ও আগুন সন্ত্রাস করেছে যুবলীগের নেতৃত্বে তাদের কবর রচনা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি’র নাম উচ্চারণ করে বলেন, ‘হেলাল ভাই আগুন সন্ত্রাসীদের বাংলার মাটিতে আর ঠাঁই হবে না। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না, ওদের বিশ দাঁত ভেঙে দিতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ টানা চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে। বিধায় আমাদের ক্ষমতার লোভ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সাফল্যের কথা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বাধীনতা বিরোধীরা জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করতে পারবে না। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিতে হবে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। 
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কমিটি বাণিজ্যের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। যুবলীগের পতাকাতলে আসতে হলে কোনো মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও দলখবাজী করা যাবে না। পরিচ্ছন্নভাবে যুবলীগের রাজনীতি করতে হবে।’  
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন মহানগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ হারুনুর রশিদ, আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) বি এম মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) এস এম কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এড. গ্লে¬ারিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি। সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল। 
খুলনা জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামালের সভাপতিত্বে ও নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক শেখ শাহজালাল হোসেন সুজনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বঙ্গবন্ধু’র ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সোহেল উদ্দিন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, খুলনা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি, খুলনা জেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি, যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান সুজন, কার্যনির্বাহী সদস্য ড. আশিকুর রহমান শান্ত। বিশেষ বক্তা ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার, যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য জি এম গফ্ফার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এড. নবীরুজ্জামান বাবুসহ খুলনা জেলা, মহানগর, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন খুলনা জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিয়াজ। 
উলে­খ্য, গত ২০০৩ সালের ২৫ মে খুলনা জেলা ও নগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। জেলার সম্মেলনে মোঃ কামরুজ্জামান জামাল সভাপতি ও আক্তারুজ্জামান বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপর দিকে, নগর যুবলীগের সম্মেলনে এড. সরদার আনিসুর রহমান পপলু সভাপতি ও আলী আকবর টিপু সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি ওই কমিটি ভেঙে দিয়ে আনিসুর রহমান পপলুকে আহবায়ক, মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মোঃ শামীমকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে মহানগর যুবলীগের নতুন আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সফিকুর রহমান পলাশকে আহবায়ক এবং ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেনকে যুগ্ম-আহবায়ক করে যুবলীগের ২৫ সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি করা হয়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ