খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

ট্রিপল মার্ডার : ‘ছুটি না নিয়ে পিস্তলসহ কুষ্টিয়ায় যান এএসআই সৌমেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৭:০২ পি.এম | ১৩ জুন ২০২১

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক নারী, তার শিশু ছেলে এবং এক যুবককে হত্যার অভিযোগে আটক এএসআই সৌমেন মিত্রকে নিযে খুলনা পুলিশে রীতিমত তোলপাড় চলছে। সৌমেন চাকরিতে থেকে ছুটি না নিয়ে খুলনা থেকে কুষ্টিয়ায় এসে হত্যাকাণ্ড ঘটান। সৌমেন মিত্র খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত।

স্থানীয়রা জানান, আজ রবিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের কাস্টমস মোড়ে নারী ও শিশুসহ তিনজনকে গুলি করেন সৌমেন। স্থানীয়রা তাকে পিস্তলসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশে তুলে দেয়।

নিহতরা হলেন, কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের মেজবার খানের ছেলে বিকাশকর্মী শাকিল খান (২৮), একই গ্রামের আসমা খাতুন (৩৪) ও তার ছেলে রবিন (৪)। আসমা এএসআই সৌমেনের স্ত্রী। আসমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আসমার আগের ঘরের সন্তান রবিন।

সূত্র জানিয়েছে, এএসআই সৌমেন মিত্র আজ রবিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে লাপাত্তা ছিলেন। সহকর্মীরা তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তিনি ছুটিও নেননি। কুষ্টিয়ায় ট্রিপল হত্যায় আটক হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় আটক সৌমেন ফুলতলা থানার এএসআই। আজ সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। তিনি ছুটি না নিয়ে আনঅফিশিয়ালি কুষ্টিয়ায় গেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাতাব শেখ জানান, ‘সকালে রোলকলের (হাজিরা) সময় এএসআই সৌমেন মিত্র অনুপস্থিত ছিলেন। তার নামে বরাদ্দ থাকা সরকারি পিস্তল ও গুলি নিয়ে তিনি বের হন। কিন্তু সৌমেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় থাকায় তারা কেউ তার মধ্যে এধরনের (হত্যার) বড় পরিকল্পনা কাজ করছে, সেটি বুঝতে পারেননি।’

সৌমেন মিত্র ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ফুলতলা থানায় কর্মরত আছেন বলে জানান ওসি। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলায়।

ওসি মাহাতাব শেখ জানান, হত্যাকাণ্ড ও আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় এসে সৌমেনের খোঁজ নেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিচ্ছেন- উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন ওসি।

কী কারণে এই হত্যা, সেই বিষয় বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নিহত আসমা এএসআই সৌমেনের স্ত্রী এবং শিশু রবিন আসমার আগের ঘরের সন্তান। শাকিলের সঙ্গে আসমার ‘সম্পর্কের’ কথা জেনে যাওয়ায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সৌমেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

প্রসঙ্গত্ব, কুষ্টিয়া শহরে প্রকাশ্যে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সৌমেনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (১৩ জুন) বেলা সোয়া ১১টার দিকে শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের কাস্টমস মোড় এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শাকিল (২৮), আসমা (২৫) এবং  রবিন (৫)। তাদের মধ্যে শাকিল বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার পদে (ডিএসও) চাকরি করতেন। শাকিল কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শাওতা গ্রামের মেসবাহ আলীর ছেলে। আসমার বাড়ি কুমারখালী উপজেলায়। রবিন আসমার ছেলে। তারা এএসআই সৌমেনের স্ত্রী ও সন্তান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ