খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১১ বৈশাখ ১৪৩১

চলতি সপ্তাহে প্রশাসনিক অনুমোদন

পঞ্চাশ একর জমিতেই হচ্ছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস

বশির হোসেন |
১২:৪৭ এ.এম | ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩


অবশেষে পঞ্চাশ একর জমিতেই নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পাওয়া যাবে প্রশাসনিক অনুমোদন। এর ফলে অবকাঠামো নির্মানের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যাবে বলে মনে করছেন প্রকল্প পরিচালক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি- বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে অধিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। সে লক্ষ্যে ডিন, শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। নানান জটিলতায় জমি চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছিলো কর্তৃপক্ষ। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর জমি জটিলতা অনেকাংশে কেটে গেছে তবে চাহিদার অর্ধেক জমি বরাদ্দ দিয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যাবে চলতি সপ্তাহে, ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনায় একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলো খুলনাবাসী। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনা সফরের আগে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানানো হয়। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠিও দেন জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন। পরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন তিনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর খুলনায় একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২০ সালের ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা-২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরের বছর ১ ফেব্র“য়ারি বিলটি সংসদে পাস হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। চলতি বছরে ৩ মে তিনি উপাচার্য পদে যোগদান করেন। এরপর থেকে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া করা ভবনে শুরু হয় প্রশাসনিক কার্যালয়। সেখানে আলাদা কয়েকটি কক্ষে চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ৭ মাস পর শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে প্রকল্পের পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই প্রকল্পের ডিপিডি হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ নূরুল মোমেনকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনা-মোংলা রেললাইন সংলগ্ন মাথাভাঙ্গা মৌজায় প্রাথমিকভাবে জমি বাছাই করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য সেখানে একশ’ একর জমির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। তবে কৃষি জমি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকায় ৫০ একর জমি ব্যবহারে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্থানে মাটির গুণগতমানের কারণে ওই স্থানে ৬ তলার অধিক উচ্চতর ভবন নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ মর্মে সয়েল টেস্টিং রিপোর্ট পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ ৬ তলা করে প্রতিটি ভবন নির্মাণ করা এবং ময়ূর খালকে সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে দৃষ্টিনন্দন জলাধার সৃষ্টি করার জন্য কমপক্ষে ৭০ একর ভূমি বরাদ্দ প্রয়োজন। উঁচু ভবন করা না গেলে ভবনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তখন জমি প্রয়োজন বেশি হবে। কিন্তু উঁচু ভবন করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেলে সেখানে বহুতল ভবন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা। তাদের নির্দেশনা মেনে সেখানে বহুতল ভবনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে বহুতল ভবন নির্মাণ করা গেলে নির্ধারিত ৫০ একরেই পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস করা সম্ভব হবে। 
তিনি আরও জানান তিনটি ধাপে মোট ৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো। প্রাথমিক ধাপে ২ বছরের মধ্যে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৪ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। শেষ ধাপে এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গতা পাবে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ