খুলনা | সোমবার | ০৪ মার্চ ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

কাবাঘরের ছাদ পরিষ্কার ও কিসওয়া সংরক্ষণের কাজ চলছে

ধর্ম ডেস্ক |
০৩:৩১ পি.এম | ০৫ মার্চ ২০২৩


পবিত্র কাবাঘরের কিসওয়া সংরক্ষণ এবং ছাদ পরিষ্কারের কাজ চলছে। রোববার (৫ মার্চ) মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল হারামাইন শরিফাইনের ফেসবুক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। পোর্টালটি কিসওয়া সংরক্ষণ ও পবিত্র কাবাঘরের ছাদ পরিষ্কারের ছবি দিয়ে ক্যাপশনে উল্লেখ করে- ‘কিসওয়া রক্ষণাবেক্ষণ ও পবিত্র কাবার ছাদ পরিষ্কারের কাজ চলছে।’

কিসওয়া পাঁচ ধাপে বানানো হয়। প্রথমে কাঁচা রেশম উপাদানকে সাবান মিশ্রিত গরম পানিতে ২৪ ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখা হয়। এতে রেশমের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে। এরপর তা কালো অথবা সবুজ রঙে ডোবানো হয়। তা নির্ভর করে কোন পাশের বা কাবার কোন অংশের কিসওয়া তার ওপর। সঙ্গে সঙ্গে সেলাইয়ের জন্য যে সুতা ব্যবহার করা হবে, তা-ও এতে দেওয়া হয়, যাতে কাপড় ও সুতার রং একই হয়। কাপড় ও সুতা প্রস্তুত হওয়ার পর শুরু হয় বুননের কাজ। প্রথম দিকে পুরোটাই হাতে বোনা হতো। তবে বর্তমানে এই অংশটুকু মেশিনের সাহায্যে বোনা হয়। হাতের কাজটুকু শেষাংশে থাকে

হাতের কাজ শেষ হওয়ার পর কাপড়ের ওপর পবিত্র কোরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি প্রিন্ট করা হয়। চতুর্থ অংশটিই হচ্ছে সবচেয়ে দীর্ঘ আর কষ্টকর। এই ধাপে এসে সব লেখা সোনা-রুপা মিশ্রিত সুতা দিয়ে লেখা হয়। প্রথমে হলুদ ও সাদা সুতা দিয়ে ‘লেখার অংশের ভিত্তি’ তৈরি করা হয়। এর ওপর সোনা-রুপার তার বা সুতা দিয়ে একে আবৃত করা হয়। কাপড় থেকে এর উচ্চতা প্রায় দুই সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। আর এ জন্যই এটি মেশিনের সাহায্যে করা সম্ভব নয়। এরপর বিভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়া হয়।

প্রতিবছর কিসওয়া তৈরিতে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এতে ৬৭০ কেজি বিশুদ্ধ সিল্ক, ৭২০ কেজি রং ও এসিড ব্যবহার করা হয়। কিসওয়ার ৪৭টি অংশ আলাদাভাবে তৈরি হয়ে থাকে। একেক অংশ ১৪ মিটার লম্বা ও ৯৫ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। পুরো কিসওয়ার ক্ষেত্রফল ৬৫০ বর্গমিটার। প্রতি পাশে সুরা ইখলাস স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকে। বাকি আয়াতের অংশগুলো তার নিচে বোনা হয়। প্রায় ১২০ কেজি সোনা-রুপা ব্যবহার করা হয়। সোনা-রুপার মিশ্রণের অনুপাত ৪ঃ১।

বর্তমানে দ্য কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর ম্যানুফ্যাকচারিং দ্য কাবা কিসওয়া' গিলাফ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এক লাখ বর্গমিটারের এই কমপ্লেক্স একসময় 'কিসওয়া ফ্যাক্টরি' নামে পরিচিত ছিল। পরে ২০১৭ সালে রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে এই নাম পরিবর্তন করে কমপ্লেক্সটির ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়।

গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির কার্যপরিচালনা পরিষদের তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। পুরাতন গিলাফ ঠিকভাবে টুকরো টুকরো করে প্রতি বছর বিভিন্ন মুসলিম সরকারপ্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপহার দেওয়া হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ