খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

দেশবরেণ্য ভাস্কর শামীম শিকদার আর নেই

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৭ এ.এম | ২২ মার্চ ২০২৩


একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য ভাস্কর, টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতাসহ বহু বিখ্যাত ভাস্কর্যের শিল্পী শামীম শিকদার আর নেই (ইন্নালিল­াহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...আমরা তো আল­াহর এবং আমরা আল­াহর কাছেই ফিরে যাবো)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন হার্ট ও কিডনিজনিত  রোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
প্রখ্যাত এই ভাস্কর ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। সেখান থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড চলে যান তিনি। কখনো সেখানে, কখনো দেশে বসবাস করেছেন। নিভৃতে জীবন কাটানো শিল্পী চলেও গেলেন খুব নিভৃতে। আলোচিত কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদার তার আপন বড় ভাই।
১৯৫২ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়ার মহাস্থান গড়ের চিংগাশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শামীম সিকদার। ১৫ বছর বয়সে তিনি বুলবুল ললিত কলা একাডেমিতে ভর্তি হন। পরে ১৯৭৬ সালে তিনি লন্ডনের স্যার জন কাস স্কুলে চলে যান।
১৯৭৪ সালে এই ভাস্কর শিল্পী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত বিখ্যাত ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ শিরোনামের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ভাস্কর্যটির মূল বেদিতে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও নানা আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এটি স্থাপন করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ১৯৯৪ সালে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে স্থাপন করা হয়।
একই স্থানে দেশের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য নিয়ে একটি উদ্যান সাজান তিনি। তারও আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতির পিতার ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলে স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্য ও স্ট্রাগলিং ফোর্সসহ বহু ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন।
শামীম শিকদার ২০০০ সালে একুশে পদক পান। তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ললিত কলা অনুষদের একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বর ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ