খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৪ | ১১ বৈশাখ ১৪৩১

২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জেড এ মাহমুদ ডন

‘মাদক ব্যবসাকে জিরো টলারেন্সে আনা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৬ এ.এম | ১৮ এপ্রিল ২০২৩


জেড এ মাহমুদ ডন। অতি পরিচিত মুখ। নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা-দীক্ষায়ও পিছিয়ে নেই তিনি। তিনি রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক। পিতা একেএম জালাল খুলনা জেলার সমবায় অফিসার ছিলেন। মাতা ছিলেন গৃহিনী। ২০১৮ সালে তিনি মারা যান। দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি টানা দুইবার ২৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। এবার দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আগামী ১২ জুন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে যাচ্ছেন। মাত্র ২০/২২ দিনের মধ্যে ২৪নং ওয়ার্ডবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী জেডএ মাহমুদ ডন। 
সময়ের খবরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাউন্সিলর প্রার্থী জেড এ মাহমুদ ডন বলেন, ‘২৪নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। জন্মের পর থেকে তিনি বড় হয়েছেন ২৪নং ওয়ার্ডে। দুই ভাই, তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ সন্তান। শৈশব-কৈশোর কেটেছে তার এ ওয়ার্ডে। এজন্য ২৪নং ওয়ার্ডে তার ব্যাপক পরিচিতি। ছোট বেলা থেকে প্রত্যেকটি দ্বারে দ্বারে তার আসা-যাওয়া। তিনি বলেন, যখনই তিনি এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে যাবেন তখন মানুষ মনে করবে ডন ভাইয়ের এখানে বাড়ি না, নির্বাচন করেছেন ২৭নং ওয়ার্ডে। অথচ এখন হঠাৎ করে ২৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রশ্নের সম্মুখিন হয়েও গেছেন তিনি। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।’
নতুন ওয়ার্ড বিষয়ে জানতে চাইলে ডন বলেন, ২৭নং ওয়ার্ডে জন্মগ্রহণ করলেও জন্মের পর শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাগমারা, মুসলমানপাড়া, বাঁশতলা, দোলখোলা, ইকবাল নগর ও রায়পাড়া এলাকায়। আর এ কারণেই অত্র অঞ্চলের মানুষের সাথে রয়েছে ভালোবাসার মিলবন্ধন। তিনি বলেন, আমি দলের একজন কর্মী। দল যেহেতু আমাকে ২৪নং ওয়ার্ডে মনোনয়ন দিয়েছেন সেহেতু, দলের নেতা-কর্মীরা সব সময় আমার সাথে উজ্জীবিত আছেন।’ 
জেড এ মাহমুদ ডন বলেন, ‘পরিকল্পিত নগরায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। হঠাৎ কোনো কিছু করা যাবে না। যেখানে যেমন অবস্থা আছে সেটা সুন্দরভাবে মানুষের বসবাসের উপযোগী করতে হবে।’ তিনি বলেন, এটা অনেক বড় ওয়ার্ড। নগরীর শের-ই বাংলা রোড থেকে প্রথমে দেখলে মনে হয় ছোট রাস্তা। কিন্তু ভিতরে গেলে দেখা যায় অনেক বসতঘর। এখানে শিক্ষিত লোক, চাকুরিজীবী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা ইকবাল নগর, নিরালা প্রান্তিক এলাকা, নির্জন এলাকা দিয়ে বসবাস করে।’ 
ডন বলেন, ‘যেটা সরকারি জায়গা সেইটা আমাদের উদ্ধার করতে হবে। প্রশাসনের সহায়তায় এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চাই। মাদক ব্যবসাকে জিরো টলারেন্সে রাখা হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জলাশয় যারা দখল করে রেখেছে ব্রিটিশ আমলের ম্যাপ অনুযায়ী (১৯৩৬ সাল) সেসব জলাশয় অবমুক্ত করা হবে। যারা অবৈধ দখলদার তাদের নিভৃত করা হবে। যেখানে আগে বিভিন্ন জলাশয় ছিলো সেটা মানুষের সম্পত্তি নয়, সেটা সরকারি সম্পত্তি, এজন্য সরকারকে ফেরত দিতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’ 
জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশ্নের জবাকে জেড এ মাহমুদ ডন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে কেসিসির যে টাকা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দ আসছে, ওই টাকা মোটামুটি যথেষ্ট। ওই বরাদ্দকৃত অর্থ যদি শতভাগ কাজে লাগানো যায় তাহলে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে। ওটা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেখবো। তারপরও যদি সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল মহোদয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’ 
কিশোর গ্যাং বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকায় যদি কোনো কিশোর গ্যাং থেকে থাকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের নির্মূলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
তিনি বলেন, ২৪নং ওয়ার্ডে ২২টি জামে মসজিদ রয়েছে। এছাড়া বাইরে আছে আরো পাঁচটি মসজিদ। বিভিন্ন জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যেয়ে মুসালি­দের সাথে কথা বলে তিনি ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এলাকাবাসীর অর্থায়নে প্রতিদিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে জেড এ মাহমুদ ডনকে আমন্ত্রিত করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অর্থায়নে সেহরী পার্টির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ