খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা নিয়ে সাংবাদিকদের যা জানালেন পরীমনি, তদন্ত করছে পুলিশ

বিনোদন প্রতিবেদন |
০৬:৩৮ এ.এম | ১৪ জুন ২০২১

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। এখন নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। রবিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পরীমনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এরপর সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি তৎক্ষণাৎ তার নিজ বাসায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।  

সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি বলেন, ‘গত চারদিন ধরে একজন সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু কারো হেল্প পাইনি। সবাইকে বলেছি, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। যদি আমি মরে যাই, মনে করবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমাকে হত্যার বিচার করবেন। ’

এর আগে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আলোচিত এই অভিনেত্রী জানান, নাসির ইউ. মাহমুদ নামে একজন তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে এ ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করেছিলেন।

পরীমনি বলেন, ‘আমার কস্টিউম ডিজাইন করেন জিমি, আমাদের কাজের বাইরেও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমে অমির সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি বাসায় আসেন চারদিন আগে (ঘটনাটির দিন রাতে)। এর আগে সিনেমার ব্যাপারে মিটিংয়ের জন্য ডেট চাচ্ছিল কিন্তু আমি সময় দিতে পারছিলাম না। আমার নানু কয়েকদিন আগে অসুস্থ ছিলেন সেটা আপনারা জানেন। ’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাছির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেসময় নাছির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাছির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করে। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারে। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করেন। অমিও এঘটনার সঙ্গে জড়িত। ’

রাজধানীতে নিজ বাসায় পরীমনি সাংবাদিকদের আরো জানিয়েছেন, গত বুধবার (৯ জুন) রাতে পূর্বপরিচিত অমির সঙ্গে উত্তরার বোট ক্লাবে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন নাসিরুদ্দিনসহ চার-পাঁচজন টেবিলে বসে আছেন। তাদের সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। টেবিলে দুটি মদের বোতল ছিল। পরীকে মদপানের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করেন তিনি। পরে তাকে কফি খাইতে দেয়া হয়। তবে, কফির স্বাদ স্বাভাবিক ছিল না। তাই তিনি কফি পান করেননি। এমনকি পরে সরবরাহ করা কোল্ড ড্রিংকসেও কিছু মেশানো হয়েছিল বলে মনে হয় পরীমনির।

তিনি কোল্ড ড্রিংকসও পান করেননি। এতে ক্ষিপ্ত হন নাসিরুদ্দিন। পরীমনি ও তার সঙ্গে থাকা জেমী ওয়াশরুমে যেতে চাইলে পরীকে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি পরীমনি ও জেমী বাসায় যেতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়। নাসিরুদ্দিন পরীমনিকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেন এবং মুখের মধ‌্যে মদের বোতল ঢুকিয়ে দেন। এতে তার দাঁতের মধ্যে আঘাত লাগে এবং কিছু মদ গলার মধ্যে চলে যায়। এতে তার বুক জ্বালা করে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীমনি ও জেমী চিৎকার ও কান্না করলে তাদের ধর্ষণ করার হুমকি দেয়া হয় এবং গালাগালি করা হয়।

ওই রাতেই বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরীমনি।

এরপর সাংবাদিকদের সামনে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান পরীমনি। একইসঙ্গে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের সঙ্গে ঘটা এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না পরীমনি। তাই এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে,  প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে কাজ করছে পুলিশ। রবিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে বনানীতে অভিনেত্রী পরীমনির বাসায় যায় বনানী থানা পুলিশ। সেখানে গিয়ে ফেসবুকে দেয়া তার স্ট্যাটাসের বিষয়ে এবং তার করা অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন পুলিশ সদস্যরা। পরীমনির অভিযোগগুলো শোনার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে লিখিতভাবে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি পরীমনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া পরীমনির স্ট্যাটাস পুলিশ সদর দফতরের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ