খুলনা | শুক্রবার | ২১ জুন ২০২৪ | ৭ আষাঢ় ১৪৩১

২০২২ সালে বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি

বন্ধ হয়েছে ৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কমেছে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৫ এ.এম | ২২ মে ২০২৩


এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। এগুলো সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী কমেছে। 
২০২২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের করা বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারিতে (এপিএসসি) এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। আগামী ২৩ মে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, এটা আসলে করোনাকালের চিত্র। সে সময় কিন্ডারগার্টেন টাইপের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ছিল না। ভাড়া বাড়িতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতো। শিক্ষার্থী না থাকায় তাদের উপার্জন ছিল না। ফলে, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতে পারেনি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় কিছু কিছু চালু হচ্ছে। তবে, এ সময়ে কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি। 
তিনি বলেন, আমরা দুই বছরের উপবৃত্তির টাকা একসঙ্গে পেয়েছি। ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু হয়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, বিষয়টি এমন না। বন্ধ থাকার কারণে প্রাইমারির অনেক শিক্ষার্থী কওমি মাদ্রাসায় চলে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে কিছু শিক্ষার্থী ফিরে আসছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর বাইরে প্রাথমিক পর্যায়ে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি করা হয়। সে অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ১ লাখ ১৮ হাজারের কাছাকাছি। ২০২২ সালের শুমারিতে এই সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে অর্থাৎ ৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর নেই। 
২০২১ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারির তথ্যে দেখা গিয়েছিল, সে বছর কিন্ডারগার্টেনসহ সব মিলিয়ে দেশে মোট ১৪ হাজার ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় কমেছিল। কিন্ডারগার্টেন জাতীয় বিদ্যালয়গুলোই মূলতঃ বন্ধ হয়েছে।
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে এক বছরের ব্যবধানে প্রাথমিকে মোট শিক্ষার্থী কমেছে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। অথচ প্রতি বছর শিক্ষার্থী বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। সারাদেশে প্রাথমিক স্তরে বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে।
শুমারিতে দেখা গেছে, এবার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৩ শতাংশ কমেছে। ঝরে পড়ার হার এখন ১৪.১৫ শতাংশ, যা ২০২০ সালে ছিল ১৭.২০ শতাংশ। 
এর আগে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২১ সালের তথ্য নিয়ে করা প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, ২০২১ সালে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী আগের বছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১০৪ জন কমেছে। বর্তমানে দেশে মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০ হাজার ২৯৪টি। 
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ২ কোটি ১ লাখের বেশি। ২০১৮ সালে ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ