খুলনা | বুধবার | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিতে পারে দলটি

কেসিসি নির্বাচন : বিএনপি’র কাউন্সিলর মাজেদাসহ ৮ জনের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৪২ এ.এম | ০১ জুন ২০২৩


দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ায় মাজেদা খাতুনসহ অন্তত ৮ জনকে আজীবন বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে মহানগর বিএনপি। দু/একদিনের মধ্যেই আসতে পারে স্থায়ী বহিস্কার আদেশ। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত মতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নির্বাচনীয় কার্যক্রম থেকেও দুরে থাকতে বলা হবে শিগগরিই। নগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপি’র ২৯ নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সিটি নির্বাচনে ৯নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী নগর বিএনপি’র সাবেক সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাজেদা খাতুন, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নগর বিএনপি’র আহŸায়ক কমিটির সদস্য শেখ সাজ্জাদ হোসেন, ১৯নং ওয়ার্ডের প্রার্থী নগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আশফাকুর রহমান কাকন, ২২নং ওয়ার্ডে নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব কায়সার, ৯নং ওয়ার্ডে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক কাজী ফজলুল কবীর, ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শমসের আলী মিন্টুর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে ৩০নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ আমানউল­াহ আমান, ১৪নং ওয়ার্ডের প্রার্থী এ কে এম মোসফেকুস সালেহীনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ২৯ এপ্রিল নগর বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সভায় কেসিসি নির্বাচনে দলের কোনো নেতা-কর্মী অংশ নিতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি কোনো প্রার্থীর পক্ষে তারা প্রচার চালাতে পারবেন না। নির্বাচনে কারও অংশ নেয়ার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
সূত্রে জানা গেছে, দল থেকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা ২৪নং ওয়ার্ডের প্রার্থী শমসের আলী মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফেরত পাননি। তিনি বছর দেড়েক আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ৯নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রার্থী মাজেদা খাতুন ও ২২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব কায়সারও ওই একই সময়ে দল থেকে পদত্যাগ করেন। গ্র“পিংয়ের কারণে নগর বিএনপি’র সাবেক সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাজেদা খাতুনের সাথে নেই দলীয় নেতা-কর্মীরা। তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনের এজেন্ট খুঁজে পাওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তার অনুসারীরা। 
অন্যদিকে, ৩০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ আমান উল­াহও ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল। ৯নং ওয়ার্ডের প্রার্থী নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-আহŸায়ক কাজী ফজলুল কবীরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ১৪নং ওয়ার্ডের প্রার্থী এ কে এম মোসফেকুস সালেহীন একসময় ছাত্রদলের রাজনীতি করলেও ২৩ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়।
খুলনা মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, গত ২৯ এপ্রিল খুলনা মহানগর বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কেসিসি নির্বাচনী কার্যক্রমে দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ত না হতে বলা হয়েছে। ফ্যাসিষ্ট সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, দু/একদিনের মধ্যেই তাদের বহিষ্কার আদেশ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ