খুলনা | শুক্রবার | ২১ জুন ২০২৪ | ৭ আষাঢ় ১৪৩১

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করুন

|
১২:৪৩ এ.এম | ১০ জুন ২০২৩


গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। ঢাকায় কিংবা অন্যান্য বড় শহরে রোগী নিয়ে চিকিৎসা করানো প্রায় অসম্ভব। এখনো তাদের একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু অভিযোগ আছে, সেখানেও তারা উপযুক্ত চিকিৎসা পায় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, রোগ পরীক্ষার যন্ত্রপাতি, অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে আছে এ রকম আরো কত কী? গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে দেখা যায় বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তেমনি দুর্দশার চিত্র। সেখানে রোগীদের ইনজেকশন দেওয়া, কাটাছেঁড়া করা, সেলাই, ড্রেসিংসবই করতে হয় ওয়ার্ড বয়দের। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ সব ধরণের জনবলেরই অভাব রয়েছে সারা দেশেরই। লোকবলের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক্স-রে মেশিনসহ রোগ পরীক্ষার অন্যান্য যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকে। অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে থাকে। সেগুলো সারানো হয় না।
অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত অনেক হাসপাতালে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি। ৫০ শয্যা তো দূরের কথা, আগের ৩১ শয্যার জন্য যে জনবল প্রয়োজন, তাও নেই হাসপাতালে। রোগ পরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীদের যেতে হয় বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে।
বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার জন্য শুধু প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। জনবল বা অন্যান্য সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না। ৫০ শয্যা হাসপাতালের জন্য জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), কার্ডিওগ্রাফার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (নাক, কান, গলা), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানেসথেটিকস, মেডিক্যাল অফিসার, হেলথ এডুকেটর, প্যাথলজিস্টের পদ রয়েছে। বাস্তবে সব পদই শূন্য। নার্স টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। এমনকি ৩১ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নেই হাসপাতালে। 
সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে নানা কর্মসূচি নিচ্ছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে মানুষ কাক্সিক্ষত সেবা পাবে কী করে? আমরা আশা করি, এসব হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে লোকবল নিয়োগসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ