খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৮ মাঘ ১৪৩২

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় হত্যা, পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে

|
১২:০৮ এ.এম | ১৫ জুন ২০২১

মাদকের ভয়ঙ্কর থাবায় আক্রান্ত বাংলাদেশ। বড় শহরগুলোই শুধু নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে এই থাবা। আর এর প্রধান শিকার হচ্ছে তরুণসমাজ। উঠতি বয়সের কিশোররাও আকৃষ্ট হচ্ছে এই মরণনেশায়।
গত রবিবার বিভিন্ন পত্রিকার এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মুজিবনগর উপজেলার যতারপুর গ্রামে মনিরুল ইসলাম মনি নদীপাড়ের বটগাছের নিচে বসে গাঁজা সেবন করছিল। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সাইদুল ইসলাম তাকে গাঁজা সেবন করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে মনিরুল ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা ঘাস কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় মাঠের লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দিলে সেও ঘটনাস্থলে নিহত হয়। আর মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে খুনোখুনি, সংঘর্ষ অবশ্য নতুন কিছু নয়। পত্রিকার পাতায় প্রায়ই এ ধরনের সংবাদ দেখা যায়। যেমন মাদক কেনার টাকা না পেয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে খুন হচ্ছেন বাবা-মা। ভাইয়ের হাতে খুন হচ্ছেন ভাই বা বোন। কেউ কেউ চাঁদাবাজি করছে। কেউ বা করছে ছিনতাই। কেউ করছে শিশু অপহরণ। মুক্তিপণের টাকা দিয়ে মাদক কিনবে। এভাবে মাদকের কারণে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও সেবনকে কেন্দ্র করে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে। মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করা নিষিদ্ধ হলেও আমাদের দেশে তা অবাধে চলছে। রাজধানী ঢাকা এবং বড় বড় শহর ছাড়াও মফস্বল শহরগুলোতেও এখন মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চলছে। কিন্তু এর নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগ নেই। সীমান্তে চোরাইপথে আসছে মাদক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় থাকে। মাদকের সর্বনাশা ছোবলে বহু তরুণ-তরুণীর জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। মাদককে কেন্দ্র করে বেড়েছে অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে না পারলে এ রকম খুনোখুনি হতেই থাকবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে। সর্বনাশা এই মাদককে রুখতেই হবে। তা-না হলে একের পর এক সাইদুল ইসলামের মতো খুনের ঘটনা ঘটেই চলবে। তাই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সে যেই হোক বা মাদক সিন্ডিকেট যতই শক্তিশালী হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ