খুলনা | সোমবার | ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ভারতীয় বিনিয়োগ : দেশের মাটিতে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পাবে বাংলাদেশীরা

মল্লিক সুধাংশু |
০১:২৩ এ.এম | ১৪ অগাস্ট ২০২৩


বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে। বন্ধুপ্রতীম দেশ দুইটির মধ্যে ভারতীয় বিনিয়োগ দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরো সুদৃঢ় করছে। এবার স্বাস্থ্য সেবা খাতে বিপুল অংকের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। ইতমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি স্বনামধন্য ডিসান হাসপাতাল। স্বাস্থ্য সেবা খাতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসছে।
স্বাস্থ্য সেবায় ভারতের এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক সুনাম রয়েছে। কম খরচে তারা সে দেশের নাগরিকদের সেবা প্রদান করে থাকে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশী রোগীদের জন্যও ভারতীয়দের মতো কম খরচে সেবা প্রদান করা হয়। এবার সেবা বাংলাদেশিদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ঢাকাসহ খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্যে প্রাথমিকভাবে জমি দেখা থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে ডিসান হাসপাতালের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মিঃ সজল দত্তের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  
ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে হাসপাতাল করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীরা। তাদের দাবিকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যৌক্তিক করে প্রতিষ্ঠানটির রিচার্জ টিম কাজ শুরু করে। দেখা যায়, কোলকাতা সহ ভারত বর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসার জন্য যান বাংলাদেশের রোগীরা। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখে ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিচার্জ টিম।
জানা যায়, বর্তমানে এই হাসপাতালটির এক হাজার বেড রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। এর মধ্যে কোলকাতায় আছে সাড়ে সাতশ’ এবং শিলিগুড়িতে রয়েছে দেড়শ’ বেড। ডিসানের এই বিনিয়োগ পুরো দেশের রোগীর জন্য যথেষ্ট নয় বলেও তারা মনে করছে। ভাবছে হয়তো কিছু সংখ্যক রোগীর সেবার সুযোগ হবে। তবে ভবিষতে এর চেয়ে আরো বড় পরিকল্পনাও আছে তাদের। বিশেষ ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার যোগে রোগী পরিবহনেরও করা হবে। কোলকাতার মতো বাংলাদেশে নির্মিত ডিসান হাসপাতাল থেকে কোলকাতায় রোগী পরিবহনের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজল দত্ত জানিয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতায় বলছে কয়েকটি ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবার জন্য বাংলাদেশী রোগীরা সাধারণত ভারতে যান। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কার্ডিয়াক, হার্ট নিয়ে চিকিৎসা। এর মধ্যে পেসমেকার, হার্টেও এনজিও প্লাস্টিক, বাইপাস আছে। এরপর নিউরো, ব্রেইন অব স্পাইন ডিস অর্জারস এবং গ্যাস্ট্রোআ্যান্টেরোলজি থাকবে। বাংলাদেশী রোগীদের সুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আর ব্যয় সংকোচনটি যেভাবে হবে তা হলো একজন রোগীকে বারবার কোলকাতা যাওয়া আসা থাকা খাওয়ার ক্ষেত্রে যে খরচ হতো বাংলাদেশের হাসপাতালটিতে সেই খরচ হবে না। কারণ হাতের কাছেই দেশের মাটিতে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরা। 
আশা করা হচ্ছে ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগের পর আরো বেশি বেশি বিনিয়োগ আসবে বাংলাদেশে। এদেশের বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছুটে আসবে। তবে হয়তো কেউ প্রথমে আসবে, আবার কেউ পরে আসবে এমন ভাবনা আছে বিনিয়োগকারীদের। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা সেবাকে ডিসানের পক্ষ থেকে মানব সেবা ব্যবসা নয়, মানব সেবা হিসেবে দেখা হয়। 
জানা যায়, ডিসান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাতপুরুষ খুলনার। সজল দত্তের কোলকাতা জন্ম হলেও তার পিতা বাংলাদেশের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে কোলকাতা যান। মিঃ দত্ত আমেরিকায় ব্যবসা করেন। মানব সেবা সামনে রেখেই তার পথ চলা। এ উদ্যোগকে অন্তত খুলনাবাসী স্বাগত জানাবেন এটাই স্বাভাবিক।
মলি­ক সুধাংশু, সিনিয়র সাংবাদিক

প্রিন্ট

আরও সংবাদ