খুলনা | সোমবার | ০৪ মার্চ ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মী, খুলনা-৬

দলটার আর বারো বাজাবেন না এমপিকে আ’লীগ সভাপতি

আশরাফুল ইসলাম নূর |
১২:৪২ এ.এম | ২৬ অগাস্ট ২০২৩


আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরব হয়ে উঠছে তৃণমূল, ক্ষোভে ফুসছে বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। সর্বশেষ গেল বুধবার কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে শোকসভায় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জি এম মহসিন রেজা ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর বাক-বিতন্ডার ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজা বলেন, ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দেবেন না। অনেক করেছেন। দলটাকে আর বারো বাজাবেন না।’ সংসদ সদস্যকে হুঁশিয়ারি করে প্রকাশ্যে অন্যায়ের প্রতিবাদের ঘটনা খুলনাতে এটাই প্রথম। সে কারণে বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফুটে উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার কয়রার কালনা আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন আ’লীগের আয়োজনে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার জন্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু’র নাম ঘোষণা করলে তার কতিপয় অনুসারী শ্লোগান দিতে শুরু করে। এ সময় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজা শ্লোগান বন্ধের আহŸান জানান। কিন্তু তার আহŸানে সাড়া না দিয়ে শ্লোগান অব্যাহত রাখেন সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু’র অনুসারীরা। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামান বাবু বক্তব্যকালে শ্লোগানধারী তার অনুসারীদের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেন। এ সময় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি প্রতিবাদ জানালে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সংসদ সদস্য বক্তব্য শেষ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বক্তৃতা করছেন। তিনি বলছেন- ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণমানুষের দল, এখানে কর্মীদের উচ্ছ¡াস থাকবে, কর্মীরা শ্লোগান দিয়ে এগিয়ে আসবে। শ্লোগান হচ্ছে এই দলের প্রাণ।’
তাৎক্ষণিক কয়রা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জিএম মহসীন রেজা দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যের দিকে হাতের ইশারা করে বলে ওঠেন, “এখানে উস্কানী দিবেন না, উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিলে হবে না। আপনি আর দলের বারোটা বাজাবেন না। অনেক করেছেন। আমরা কিন্তু এতোদিন কোনো কথা বলিনি, আপনি উস্কানি দিবেন না।”
এ বিষয়ে খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুর ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল নম্বরে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জি এম মহসিন রেজা বলেন, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্য পাওয়া না পাওয়ার ক্ষোভ রয়েছে। সে কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনের শক্তি ফিরে পেতে কয়রার ৭টি ইউনিয়নে শোক সভার আয়োজন করেছি। প্রোগ্রাম গুলো দেখে জনগণ বুঝবে আ’লীগের নেতা-কর্মীরা এক। এখানে কেউ কারোর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া যাবে না। কিন্তু, উনি (এমপি) প্রোগ্রামে বার বার দশ/বারোটা ছেলে নিয়ে যান। উনি (এমপি) যখন বক্তব্য দেন তখন ওই ছেলেগুলো শুধু শ্লোগান দেয়। জেলার সিনিয়র নেতা-কর্মীদের বক্তব্যের সময় ওই ছেলে গুলো শ্লোগান দেয় না। তাহলে দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের অপমান করা হয় এই ব্যাপারটা এমপি সাহেব বুঝতে চান না।
ওইদিন (বুধবার) প্রোগ্রামের সময় স্বল্পতার কারণে আমিও তিন মিনিটের বেশী বক্তব্য দিতে পারিনি। বক্তৃতার জন্য এমপি’র নাম ঘোষণার সময় তার অনুসারী দশ/বারোটা ছেলে শ্লোগান শুরু করলে আমি নিষিধ করছি। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে শ্লোগান দিতে থাকে। এমপি’র বক্তব্যে উসকানি মূলক বক্তব্য দেয়া শুরু করে। এ সময় আমি প্রতিবাদ করি।
জিএম মোহসিন রেজা আরও বলেন, এমপি হচ্ছে দলের ফসল। নেত্রী বরাদ্দ দিলে পূর্বে আমরা দেখেছি দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বসে আলোচনা করে নেন। কিন্তু উনি (এমপি) ঘরে বসে বসে তার অনুসারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করেন। কোথায় উন্নয়ন করেছে আমরা জানি না। উনি এমপি হয়েছেন দলের কারণে ব্যক্তিগত কারণে না। টিআর, কাবিখা, কাবিটা, পানির ট্যাংক ও টিউবওয়েল কোথায় দিচ্ছে তাও আমরা জানি না। এসব বিক্রি করে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে আর দলের নেতা-কর্মীদের ভিক্ষা করে খেতে হবে।
শোক সভায় উপস্থিত থাকা খুলনা জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সোহরাব আলী সানা বলেন, উপজেলা আ’লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আগামী সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ করতে কয়রায় উপজেলা আ’লীগের উদ্যোগে সাতটি ইউনিয়নে শোকসভা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। পাঁচটি ইউনিয়নে শোকসভা সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রতিটি প্রোগ্রামে স্থানীয় সংসদ সদস্য তার কিছু অনুসারী নিয়ে আসেন। তারা শুধু এমপি সাহেবের বক্তব্যের সময় শ্লোগান দেয়। জেলার আর কোন নেতার সময় তারা থাকে না। এটা দলের জন্য খুবই বিব্রতকর।
ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার জিএম মাহবুবুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডল ও সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলামসহ উপজেলার নেতৃবৃন্দ। 
এ বিষয়ে এখনি সবাই মন্তব্য করতে না চাইলে সংসদ সদস্যের একলা চলো নীতির অসাংগঠনিক কর্মকান্ডে চরম বিরক্ত সকলেই। এ ঘটনার পর থেকে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে বর্তমান সংসদ সদস্যের নানান কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। (আগামীকাল ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মী, খুলনা-৫ প্রকাশিত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ