খুলনা | শুক্রবার | ২১ জুন ২০২৪ | ৭ আষাঢ় ১৪৩১

ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মী, খুলনা-৪

রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ায় আ’লীগ নেতাদের বাইরে এমপি’র নিজস্ব বলয় সৃষ্টির অভিযোগ!

আশরাফুল ইসলাম নূর |
১২:৪১ এ.এম | ২৮ অগাস্ট ২০২৩


গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও নানা কারণে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী। সে কারণেই আসনটিতে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এ আসনে যোগ্য প্রার্থীই জয়-পরাজয়ের মূল নিয়ামক বলে মনে করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভৈরব-রূপসা-আঠারোবেঁকি-আতাই নদী ঘেঁষা রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে খুলনা-৪ আসনটি ১৯৯১ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের দখলে। সে কারণে এ তিন উপজেলায় আ’লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি বেশ মজবুত। কিন্তু সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য’র বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ উপজেলা ও ইউনিয়ন আ’লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। একই সাথে শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বাদ দিয়ে তার কতিপয় অনুসারীদের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। এ তিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার অনুসারীদের দ্বারা নিয়োগ বাণিজ্যের দায়ও চাপছে তাঁর উপরেই।
তেরখাদার ছাগলাদহ ইউনিয়নে পরাজিত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) মোঃ শুকুর শেখ বললেন, ‘ইউপি নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে তো অন্য প্রার্থী ছিলেন না, ছিলেন এমপি নিজেই। তিনি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আমার নৌকা প্রতীকের বিরোধীতা করেছেন। আমার পরাজয়ের একমাত্র কারণ তিনি।’
নির্বাচনে জিতলেও অনুরুপ অভিযোগ অজগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায় ও সাচিয়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বুলবুল আহমেদের।
সেবা বঞ্চিত একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, তিনি নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন না; থাকেন ঢাকায়। অসুবিধায় পড়ে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেয়েও চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি পার করে তার সাথে সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। তাই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় দলটির নেতা-কর্মীরা। এছাড়া ঢাকার গুলশানে আব্দুস সালাম মূর্শেদীর দখলে থাকা বাড়ি বিতর্কের ইস্যুটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
যদিও আত্মপক্ষ সমর্থনের বিবৃতিতে এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী।
দিঘলিয়ার বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে জেলা আ’লীগের এক নেতা বলেন, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এলাকায় থাকেন না; তিনি কবে এলাকায় আসবেন সেটা আ’লীগের নেতা-কর্মীরা জানতে পারেন ফেসবুকের কল্যাণে। কতিপয় সুবিধাভোগী ব্যতীত তার সাথে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ন্যূনতম সম্পর্ক নাই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মূর্শেদীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 
আগামী নির্বাচনে খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, যুগ্ম-সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু ও মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, প্রয়াত সংসদ সদস্য ও সংসদের হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ছেলে জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ এবং নগর যুবলীগের আহবায়ক মোঃ শফিকুর রহমান পলাশ। আবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান মনোনয়ন পাইলেও অবাক হবেন না তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের ১০২তম এ আসনটিতে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা প্রথমবার জয়লাভ করেন। সেই থেকে এলাকায় আ’লীগের প্রভাব বেড়েছে। তবে ভোটের ব্যবধান কম থাকে। যদিও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী প্রয়াত ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই বিজয়ী হয়েছিলেন। এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই মারা যাওয়ায় হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেন বিশিষ্ট শিল্পপতি সাবেক জাতীয় ফুটবলার আব্দুস সালাম মূর্শেদী। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে প্রার্থী না থাকায় সংসদ সদস্য বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন সালাম মূর্শেদী। তিন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তালিকা মোতাবেক এই আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। 
(আগামীকাল ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মী, খুলনা-৩ প্রকাশিত হবে।)

প্রিন্ট

আরও সংবাদ