খুলনা | সোমবার | ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ১৭ আশ্বিন ১৪৩০

খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্যালাইন সংকট, বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে

রামিম চৌধুরী |
১২:৫২ এ.এম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় স্যালাইনের সংকট। গত কয়েকদিন ধরেই রোগীরা পাচ্ছেন না স্যালাইন। বাইরে থেকে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে তাদের।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে এখানে আসেন হাজারো মানুষ। গত কয়েকদিন খুলনায় বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭০-৮০ জন ডেঙ্গু রোগী। গত ২ সেপ্টেম্বর এ হাসপাতালে ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও নতুন ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিলো ১৬ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৮৭ জন। এছাড়াও গত ১ আগস্ট নড়াইল থেকে আসা ইসরাইল (৬০) নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। এ নিয়ে খুলনা মেডিকেলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে। 
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় স্যালাইন। তবে সেই স্যালাইন মিলছে না এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। ৭০-৮০ টাকার একটি সাধারণ স্যালাইন রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। একজন রোগীর প্রতিদিন ২টি করে স্যালাইন প্রয়োজন হয়। তার জন্য ব্যয় হচ্ছে ৩০০ টাকা। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ খরচ গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীরা জানায়, চিকিৎসকরা সাধারণ স্যালাইন ব্যবহার করতে বললেও তাও হাসপাতাল থেকে পাচ্ছেন না তারা। গত এক সপ্তাহ যাবত বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। তবে বাইরে দোকান থেকে কিনতে গেলেও নানা রকম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। সব রকম ওষুধ না কিনলে শুধুমাত্র স্যালাইন রোগীদর কাছে বিক্রি করছে না তারা। পেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। 
হাসপাতালে কর্মরত সেবীকারাই রোগীদের এই স্যালাইন দিয়ে থাকেন। কথা হয় মেডিসিন বিভাগের ৭-৮ নম্বর ওয়ার্ডের সেবিকাদের সাথে। তারা জানায়, হাসপাতালের স্টোরে স্যালাইন সংকটের কথা জানানো হয়েছে। তবে স্টোরে স্যালাইন না থাকায় রোগীদের দিতে পারছেন না তারা। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগষ্ট স্যালাইনসহ নানা ওষুধের চাহিদাপত্রসহ একটি দরখাস্ত পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেখানে বলা হয় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী সাধারন স্যালাইনের ১০ হাজার পিসের চাহিদা থাকলেও মজুদ রয়েছে মাত্র ৩২০ পিস। এছাড়াও ৪ হাজার পিস ডিএনএস স্যালাইনের চাহিদার বিপরীতে রয়েছে ৪১১টি। একই আবেদন পাঠানো হয়েছে ওষুধ সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানির কাছে। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবচার ম্যানেজার মোঃ শরিফুর রহমান জানান, হাসপাতালের স্যালাইন শেষ হওয়ার আগেই চাহিদা দেওয়া হলেও তা এখনো আসেনি। তবে এ স্যালাইন যেন দ্রুত হাসপাতালে আসে তা নিয়ে বার-বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৫শ’ শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে দেড় হাজারেরও বেশি রোগী। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যয় হওয়ার কারনে এ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সাময়িক এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ