খুলনা | সোমবার | ২২ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

জামাতে নামাজের সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না যেসব বিষয়ে

ধর্ম ডেস্ক |
০১:২৩ এ.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩


জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ সব থেকে উত্তম জায়গা। তবে মসজিদে প্রবেশের সময় জানাশোনা না থাকার কারণে অনেক সুন্নতের প্রতি অবহেলা দেখানো হয় এবং তা পালন করা হয় না। এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সবারই। এমন কিছু বিষয় হলো- 
জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করা : জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য অনেকেই তাড়াহুড়ো করেন। এমন না করে ধীরস্থিরভাবে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত। কারণ হাদিস শরিফে জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করা হয়েছে। 
বর্ণিত হয়েছে, নামাজের ইকামতের পরেও যদি তোমরা মসজিদে যাও তাহলে মানসিক অস্থিরতা বা দৌড়াদৌড়ি করে মসজিদে যাবে না। শান্তও ধীরে ধীরে যাবে। যতটুকু নামাজ ইমামের সঙ্গে পাবে আদায় করে নেবে। বাকিটা পরে নিজে আদায় করবে। (বুখারি ও মুসলিম)
ধীরস্থিরভাবে যাওয়ার কারণে ইমাম এক রাকাত শেষ করে ফেললেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ, আমরা মসজিদে রাকাত সংখ্যা গণনা করত যাই না, বরং আল­াহ তায়ালার হুকুম পালন ও সওয়াব অর্জন করতে যাই।
সামনের কাতার খালি রেখে পেছনে দাঁড়ানো : মসজিদে প্রবেশের পর সামনের কাতারে জায়গা থাকার পরও অনেকে সামনে ফাঁকা রেখে পেছনে দাঁড়িয়ে যান। হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে এবং একে গুণাহের কাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যথাসম্ভব ধীরস্থীরভাবে সামনের কাতারে দাঁড়ানো উচিত। পেছনে না দাঁড়িয়ে নামনে দাঁড়ালে সওয়াব বেশি। জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কি এভাবে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়াবে না, যেভাবে ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়ায়?’ আমরা বললাম, ‘ফেরেশতারা তাদের রবের সামনে কীভাবে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়ায়?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তারা সামনের কাতারগুলো আগে পূর্ণ করে এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ায়।’ (মুসলিম, হাদিস, ৪৩০; হালবাতুল মুজালি­, ২/৩১২; রদ্দুল মুহতার, ১/৬৩৬)
কাতারের মাঝে খালি রাখা : অনেকে জামাতে নামাজ পড়ার সময় কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রেখে আশেপাশে দাঁড়ান। এমন করা উচিত নয়। কারণ, আল­াহর রাসূল সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়াসাল­াম কাতারের মাঝের ফাঁকা বন্ধ করতে এবং কাতার সোজা করতে বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা বন্ধ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। -(সিলসিলা ছাহীহাহ, হাদিস, ১৮৯২)
অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি শয়তানকে কাতার সমূহের ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখছি, যেন সে কালো ছাগলের বাচ্চা। কাজেই তোমরা প্রাচীরের মত কাতার মিলিয়ে দাঁড়াও। (নাসাঈ, হাদিস, ৮১৫; আবু দাউদ, হাদিস, ৬৭৩)। 
দুখুলুল মসজিদ আদায় করা : মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুখুলুল মসজিদ বা তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এই নামাজ পড়ার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। মসজিদে প্রবেশের পর মাকরুহ সময় না হলে এই দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করা পর্যন্ত না বসে।’ -(সহিহ বুখারি, হাদিস, ১১৬৭)
সুতরা ব্যবহার করা : জামাতের নামাজ বা সুন্নত শুরু করার পর যদি নামাজির সামনে দিয়ে কেউ যাওয়ার সম্ভবনা থাকে তাহলে আগে থেকেই সামনে সুতরা দিয়ে রাখা উচিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, ‘সুতরা ছাড়া নামাজ পড় না।’ -আবু দাউদ।
নামাজের মাসআলা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা : নামাজের তাকবিরে তাহরিমা থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত কোন সময় কোন স্থানে হাত রাখতে হবে, চোখের দৃষ্টি রাখতে হবে এবং কখন কোন দোয়া, তাসবিহ পড়া ওয়াজিব, সুন্নত এসব খুঁটিনাটি বিষয়ে জেনে রাখা কর্তব্য সবার। এসব জানা না থাকার কারণে অনেকের নামাজ আদায় হয় না ঠিকমতো, কেউ কেউ সওয়াবও পান না। প্রয়োজনে আলেমদের কাছ থেকে এসব শিখে নেওয়া উচিত।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ