খুলনা | শুক্রবার | ২১ জুন ২০২৪ | ৭ আষাঢ় ১৪৩১

দলের নেত্রী এখনও গৃহবন্দি অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলছেন : মির্জা ফখরুল

নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া

খবর প্রতিবেদন |
১২:৫৭ এ.এম | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩


এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসার পরবর্তীতে দুপুরে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর আগে সকালে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ কথা জানান। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থতার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে আছেন। ম্যাডামের লিভার, কিডনি, হার্ট, লাঞ্চসহ সার্বিক অবস্থার অবণতি হওয়ার কারণে এক পর্যায়ে সিসিইউতে নিতে হয়। সিসিইউ’র চিকিৎসা পরবর্তীতে এখন তিনি (খালেদা জিয়া) মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। পরে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
গত ৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। এর আগে ১২ জুন তিনি এই হাসপাতালে এসেছিলেন। ওই সময় পাঁচ দিন তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়েছিল।
৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের জটিলতা এবং হৃদরোগে ভুগছেন।
অন্যদিকে, বিকেলে দলের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গণতন্ত্রের মাতা বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার অবস্থা গতরাতে ক্রিটিক্যাল হয়ে পড়েছিলো, আজকে একটু ভালো হলেও এখনো ক্রাইসিসের বাইরে নন। তার এডভান্স ট্রিটমেন্ট দরকার, যা এদেশে নেই। তাই সরকারের প্রতি আমাদের দাবি-জীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে তাকে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হোক, তা না হলে সকল দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, গতকাল (রবিবার) রাতে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। আজ (সোমবার) সকালে তাকে আবার কেবিনে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, তারপরও তিনি এখনও ক্রাইসিসের বাইরে নন। চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন, তার জীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।
হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান রয়েছেন। তার বোন সেলিমা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও সব সময় হাসপাতালে খোঁজ-খবর রাখছেন।
লন্ডন থেকে তার বড় ছেলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডাঃ জোবায়দা রহমান সার্বক্ষণিক ম্যাডামের চিকিৎসার সব কিছু তদারিক করছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। গত ৯ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, গত কয়েকদিনে খালেদা জিয়ার লিভারের জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, কিডনির কর্মক্ষমতা কিছু কমতে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে রাতে কেবিন থেকে রাতে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা এখন দুর্বল।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতভাবে তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অতিদ্রুত বিদেশে লিভার প্রতিস্থাপন সুযোগ সম্মিলিত আধুনিক মাল্টি ডিসিপ্ল্যানারি মেডিকেল সেন্টারে নেয়ার জরুরি। তাহলেই তিনি জীবনাঙ্কা মুক্ত হতে পারেন বলে বোর্ড তার রিকমেন্ডেশনে বলেছেন।
খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত ১৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার। ৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি, লিভার জটিলতায় ভোগছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ