খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৮ মাঘ ১৪৩২

সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে অনুমতি পাচ্ছে ভুটান

খবর প্রতিবেদন |
০৮:৪৩ এ.এম | ১৫ জুন ২০২১

দেশের তিন সমুদ্রবন্দর মোংলা, চট্টগ্রাম ও পায়রাসহ মোট ছয়টি বন্দরকে ‘পোর্ট অব কল’ হিসাবে ভুটানকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভুটানের পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পয়েন্টও বাড়ছে। সব ঠিক থাকলে এসব বন্দর ও পয়েন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে এ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সংশোধনে একমত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভুটান। বিষয়টি আজ মঙ্গলবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠেয় দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ‘ইউজ অব ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ ফর ট্রান্সপোর্টেশন অব বাইলেটারাল ট্রেড অ্যান্ড ট্রানজিট কার্গোস’র অধীনে এসওপি রয়েছে। এতে শুধু নারায়ণগঞ্জ বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। এসব বন্দর ‘পোর্ট অব কল’ স্বীকৃতি পেলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে ভুটান। নিয়ম অনুযায়ী, শুধু পোর্ট অব কলভুক্ত বন্দরগুলোতে পণ্য ওঠানামার অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি নৌপথ নেই। ভুটান থেকে সীমিত আকারে পণ্য ভারত হয়ে নৌপথে বাংলাদেশে আমদানি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক জানান, আমরা চাই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উন্নত কানেকটিভিটি থাকুক। এজন্য ভুটান দেশের তিন সমুদ্রবন্দরসহ মোট ৬টি বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসাবে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কম দামে ও কম যাতায়াত খরচে ভুটান থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারব। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবহারের ফিও পাব।

দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটির বাংলাদেশের পক্ষের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. এটিএম মোনেমুল হক। বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, এসওপিতে কিছু সংশোধনীর বিষয়ে অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সেসব বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে তুলে ধরব। দুই দেশের মধ্যকার আলোচনার পর সেগুলো চূড়ান্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছয়টি বন্দর পোর্ট অব কলভুক্ত করার বিষয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি।

তবে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় সবকিছুই চূড়ান্ত হবে। জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ভুটান সফরকালে দুই দেশে অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহণ ও ট্রানজিট সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হয়। ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল এই এমওইউ’র আওতায় এসওপি স্বাক্ষর হয়। তবে এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একটিমাত্র জাহাজ ভুটানের পাথর নিয়ে এসেছে।

ভারতীয় নৌযান এমভি এএআই নামের ওই জাহাজটি ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবরী থেকে নৌপথে ভুটানের এক হাজার ৫ টন পাথর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আসে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় ১৯টি জাহাজে ভুটানের পণ্য বাংলাদেশে এসেছে। ভুটানের পণ্য ভারতের ধুবরী থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নৌপ্রটোকল চুক্তিতে তৃতীয় দেশের পণ্য পরিবহণের সুযোগ রয়েছে।

আরও জানা গেছে, এসপিওতে ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুটি নৌপথ রয়েছে। দুটি নৌপথের শেষ প্রান্ত ভারতের মধ্যে পড়েছে। ভুটানের সঙ্গে সরাসরি নৌপথ না থাকায় ভারত থেকে সড়কপথে পণ্য ভুটানে পরিবহণ করা হয়। রুট দুটি হচ্ছে- চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী-দৈখাওয়া হয়ে ভারতের ধুবরী। অপরটি হচ্ছে- মংলা-কাউখালী, বরিশাল, চাঁদপুর, মাওয়া, আরিচা, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী ও দৈখাওয়া হয়ে ভারতের ধুবরী। দুটি নৌপথেরই একমাত্র পোর্ট অব কল ছিল নারায়ণগঞ্জ বন্দর। ভুটান সরকার আরও ৯টি বন্দরকে ‘পোর্ট অব কল’ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

সেগুলো হচ্ছে- চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সিরাজগঞ্জ, আরিচা, মাওয়া, চাঁদপুর, মোংলা, চট্টগ্রাম ও পায়রা পোর্ট। বাংলাদেশ ৬টি বন্দরকে পোর্ট অব কলভুক্ত করতে নীতিগত সম্মত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- চিলমারী, বাহাদুরাবাদ, সিরাজগঞ্জ, মোংলা, চট্টগ্রাম ও পায়রা পোর্ট। চিলমারী নদীবন্দরে কাস্টমস সেবা দেওয়ার জন্য একটি কক্ষ এনবিআরকে বরাদ্দ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনটি সমুদ্রবন্দর পোর্ট অব কল হিসাবে ঘোষণা করা হলে ভুটান তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পণ্য এসব বন্দরে আমদানি করতে পারবে।

সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিজ দেশে নিতে পারবে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে নৌপ্রটোকল চুক্তির আওতায় শুধু মোংলা বন্দরকে পোর্ট অব কল হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। সূত্র জানায়, ভুটান ১৪টি পয়েন্টকে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পয়েন্ট হিসাবে স্বীকৃতি চায়। এক্ষেত্রে ৫-৬টিকে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পয়েন্ট হিসাবে দিতে সম্মত বাংলাদেশ। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-মোংলা বন্দর, দৈখাওয়া, চিলমারী, চট্টগ্রাম বন্দর ও পায়রাবন্দর।

প্রিন্ট