খুলনা | বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

কয়রায় সংসদ সদস্যকে কাঁদা ছোঁড়ার ঘটনা তদন্তে আ'লীগ

আশরাফুল ইসলাম নূর |
১০:১২ এ.এম | ১৫ জুন ২০২১

কয়রা উপজেলার দশালিয়া এলাকায় স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ সংস্কারকালে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুকে উদ্দেশ্য করে কাঁদা ছুঁড়ে মারার খবর প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। এতে বিব্রত হয়েছেন স্বয়ং দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। অবশ্যই পরে সংবাদ সম্মেলনে এঘটনা সম্পুর্ণ অস্বীকার করেন সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু। তবে এঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানের গুরুত্ব অনুধাবন করছেন আ'লীগের হাইকমান্ড। সে লক্ষ্যে গতকাল সোমবার (১৪ জুন) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনের নির্দেশও দেয়া হয়েছে এ কমিটিকে।

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‌ইয়াস'র প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে লোকালয়ে নোনা পানি প্রবেশ করে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনেও পুরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ উপকূলবাসী।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা আ'লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. এমএম মজিবুর রহমানকে আহবায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে, জেলা আ'লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ, দপ্তর সম্পাদক এমএ রিয়াজ কচি ও সদস্য অসিত বরণ বিশ্বাস।

সূত্রটি জানিয়েছেন, কয়রা উপজেলা আ'লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের রাজনীতি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে ক্ষুব্ধ উপকূলবাসীকে উসকে দিয়েছে কি না, মূলতঃ সে বিষয়টিই তদন্তের বিষয়।

জানা গেছে, কয়রা শাখার সভাপতি জিএম মহসিন রেজা'র সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় আ'লীগের একটি বড় অংশের প্রকাশ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এর সাথে যোগ হন জেলা আ'লীগের একজন নেতা। আবার মহারাজপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ। এ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আ'লীগের সভাপতির সহোদর জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু মনোনয়ন পাননি। কয়রা উপজেলা আ'লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজার নেতৃত্বাধীন একটি অংশ স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুর সহচার্যে থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অংশের দুরত্ব স্থানীয়দের কাছে দৃশ্যমান। ফলে কয়রা উপজেলা আ'লীগের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এ তদন্ত কমিটির সামনে ফুটে উঠবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের। তবে এসব বিষয় কোন মন্তব্য করতে রাজি নন তারা।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুকে লক্ষ্য করে কাঁদা ছুড়ে মারার ঘটনায় কেন্দ্রীয় আ'লীগের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনি কোন মন্তব্য করতে চাইছেন না।

তবে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আ'লীগের দপ্তর সম্পাদক এমএ রিয়াজ কচি সময়ের খবরকে বলেছেন, কেন্দ্র থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুন) সকল পত্রিকা অফিসে এর কপি পৌঁছে দেয়া হবে। তখন সবাই বিষয়টি জানতে পারবেন। তদন্তাধীন বিষয় কোন মন্তব্য না করে তিনি কমিটির আহবায়ক এমএম মজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত্ব, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজের স্থলে গত ১ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ট্রলার নিয়ে যান খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। বাঁধে কাজ করা উত্তেজিত জনতা সংসদ সদস্যকে দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে স্লোগন দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা কাঁদা ছুড়ে মারতে থাকেন সংসদ সদস্যকে বহন করা ট্রলারের দিকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রলার নিয়ে চলে যান বাবু। মাইকে উত্তেজিত মানুষকে শান্ত হওয়ার আহবান জানান একজন ঘোষক। কিন্তু প্রায় আধাঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে বাঁধ এলাকায়। বাবুকে ট্রলার নিয়ে ফিরে যেতে দেখে হাততালি দিয়ে ওঠেন অনেকেই। তবে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ কাজেও অংশ নেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ