খুলনা | সোমবার | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

চাহিদার তালিকায় শীর্ষে প্লাজমা এ্যাফারেসিস যন্ত্র

ডেঙ্গু চিকিৎসা : খুমেক হাসপাতালের অকেজো অর্ধ কোটি টাকার সেল সেপারেট মেশিন

রামিম চৌধুরী |
১২:৫৭ এ.এম | ২৬ অগাস্ট ২০২১

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সুবিধার্থে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ইউনিট খোলা হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরই মধ্যে এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়া শুরু হয়েছে, পাওয়া গেছে একজনের মৃত্যুর খবরও। রক্তের পাটেলেট পৃথকীকরণসহ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে সেল সেপারেট এবং পাজমা এ্যাফারেসিস মেশিন। বেশ কয়েক বছর ধরে বিকল অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে সেল সেপারেট মেশিনটি। অনেকবার চিঠি চালাচালির পরও মেশিনটি আর মেরামত করা সম্ভব নয় বলে জানান নিমিইউ থেকে আসা একটি প্রতিনিধি দল। পাজমা এফারেসিসসহ নতুন সেল সেপারেট মেশিন চেয়ে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে খুমেক হাসপাতালে স্থাপন করা হয় সেল সেপারেট মেশিন। সেই সময়ে কিছু দিন মেশিনটি চলার পর বন্ধ থাকে প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মেশিনটি আবারও চালু করা হয়। কিন্তু তা চালানো যায়নি বেশি দিন। সেল সেপারেট মেশিনটি ২০২০ সালে আবারও বিকল হয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালির পর নিমিইউ-এর একটি প্রতিনিধি দল আসে এবং তারা জানায় মেসিনটি আর ব্যবহার করা সম্ভব না। 

হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস এম তুষার আলম সময়ের খবরকে বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার অগ্রগতির জন্য সেল সেপারেট ও এ্যাফারেসিস মেশিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেল সেপারেট মেশিনের মাধ্যমে এক ব্যাগ রক্ত থেকে তিনটি উপাদান বের করা হয়। রক্তের লহিতকণিকা, রক্তের তরল অংশ (প্লাজমা) ও রক্তের পাটিলেট আলাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয় এ মেশিন। এছাড়াও পাজমা এ্যাফারেসিস মেশিনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে চাহিদা অনুযায়ী সরাসরি প্লাজমা বা প্লাটিলেট প্রবেশ করানো যায়। যা অন্য পদ্ধতিতে করতে গেলে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতার। এছাড়াও এই মেশিন দু’টি রোগীর নানা রকম চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে রোগীদের জন্য সেল সেপারেট মেশিনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ফ্রি সেবা দেওয়া হতো। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল দিয়ে এ মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীদের গুণতে হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। তাই খুব দ্রুতই এইসব মেশিনের মাধ্যমে হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রয়োজন। বেশ কয়েকবার নতুন সেল সেপারেট ও এ্যাফারেসিস মেশিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নতুন মেশিন দেওয়ার কথা বলেছে বলে জানান রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের শীর্ষ এ কর্মকর্তা। 

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ রবিউল হাসান সময়ের খবরকে বলেন, অর্ধ কোটি টাকার এই সেল সেপারেট মেশিনটি অনেক দিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তবে এটা আর মেরামত করে চালানো সম্ভব না। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য মেশিনটি খুবই জরুরী। এ অবস্থায় নতুন মেশিন চেয়ে ও প্লাজমা এ্যাফারেসিস মেশিনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়িই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন হাসপাতালটির শীর্ষ এ কর্মকর্তা। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ