খুলনা | সোমবার | ১৭ জুন ২০২৪ | ৩ আষাঢ় ১৪৩১

পশুর চ্যানেলে কয়লা বোঝাই ডুবন্ত কার্গো জাহাজ উদ্ধার কাজ শুরু

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:০০ পি.এম | ১৮ নভেম্বর ২০২৩


মোংলা বন্দরে পশুর নদীতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি’র কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে মালিক পক্ষ।

আজ শনিবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ও কয়লা রাখার অন্য এমভি মা-বুশরা নামের কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনা কবলীত স্থানে পৌছেছে। জাহাজে থাকা মাস্টার সহ ১২ জন নাবিক নিরাপদে রয়েছে। সংশ্লিস্ট মালিক পক্ষ বলছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডুবন্ত কার্গোটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

ডুবন্ত কার্গো জাহাজটির মালিক মোঃ বশির হোসেন জানান, ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়ায় অবস্থানরত বসুন্ধরা গ্রুপের কয়লা বোঝাই মার্শল আইল্যান্ড পতাকাবাহী “এমভি দুবাই নাইট” নামের একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে কার্গো জাহাজ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ কয়লা বোঝাই করে যশোরের নওয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। গতকাল শুক্রবার( ১৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বন্দর চ্যানেল দিয়ে যাওয়া সময় বন্দরের সিগনাল টাওয়ার এলাকায় পৌছালে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি কবলে পরে কয়লা বোঝাই এ কার্গোটি। জাহাজ মাস্টার কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের প্রচন্ডতা ও পানির স্রোতের টানে ডুবো চরে আটকে তলা ফেটে যায়। মুহুর্তের মধ্যে ৮শ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে কার্গোটি ডুবে যায়। ওই সময় জাহাজটিতে থাকা মাস্টারসহ  ১২ জন নাবিক সাঁতরে কিনারে উঠে যাওয়ার ফলে প্রাণে বেঁচে যান তারা। কার্গোটি নদীর ভাটায় জাহাজের সামনের ও পেছনের অংশ দেখা গেলেও মূলত ভরাজোয়ারের সময় ডুবে থাকছে বেশিরভাগ অংশই। জাহাজটি পশুর নদীর পূর্বপাড়ের সিগনাল টাওয়ার এলাকার চরে ডোবায় বন্দরের মূল চ্যানেল পুরোপুরি ঝুকি মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কয়লা বোঝাই কার্গো ডুবির ১৬ ঘন্টা পরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ ও কয়লা অপসারণের জন্য অন্য একটি কার্গো ও কাজের শ্রমিকদেরকে দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে পৌছানো হয়েছে। প্রথমে নৌযানে থাকা কয়লা অপসারন করে অন্য একটি লাইটার উত্তোলন করা হবে। তাই ডুবন্ত কার্গো উদ্ধারের জন্য “এমভি ফারহা দিবা” নামক একটি টাগবোট ও অপসারন করা কয়লা রাখার জন্য ”এমভি মা-বুশরা” নামক অন্য একটি নৌযান ঘটনাস্থনে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রস্তুতিমুলক কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে দ্রুত শুরু হবে কয়লা অপসারন কাজ। নৌযান মালিক পক্ষের দাবি ২/৩ দিনের মধ্যে কয়লা অপসারনসহ এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী-১ নামক ডুবন্ত জাহাজটি উদ্ধার করা হবে। এতে জাহাজসহ পরিবহন করা কয়লার বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়রীর জন্য আবেদন করেছে মেসার্স পিরোজপুর নেভিগেশন কোম্পানীর মালিক মোঃ বশির হোসেন বলে জানায় মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ সাসুদ্দিন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাহিন মজিদ জানান, ঝড়ের কবলে পরে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে কার্গোটি চ্যানেলের পুর্বপাড়ে ডোবার ফলে পন্য বোঝাই দেশ-বিদেশী জাহাজ আসা-যাওয়ার মুল চ্যানেল নিরাপদে রয়েছে। বন্দর থেকে কার্গো মালিক পক্ষকে লিখিত চিঠি না দিলেও কার্গোটি দ্রুত উত্তোলনের জন্য মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যেই মালিক পক্ষ কার্গোটি উত্তোলন শুরু করেছে। যদি প্রয়োজন হয় এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাধিক সহায়তা করবে বলে জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।  

গত ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৮শ ৫০ মেট্রিক টন কয়লা ক্লিংকার (সিমেন্ট এর কাচা মাল) নিয়ে এমভি আনমনা-২ নামের একটি লাইটার জাহাজ ডুবেছিল পশুর নদীর একই এলাকায়। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ