খুলনা | সোমবার | ২২ জুলাই ২০২৪ | ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

ফাইনালে ভারতের হারের পাঁচ কারণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১১:১২ পি.এম | ১৯ নভেম্বর ২০২৩


১২ বছর পর আরও একবার নিজ দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নে বিভোর ছিল ভারত। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন আর সত্য হলো কই। আহমেদাবাদে রবিবারের ফাইনালে ব্যাটে বলে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে ৬ষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার শেষ পর্যন্ত জিতেছে সেরার মুকুট।

অন্যদিকে টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে আসা ভারত এদিন ব্যর্থ হয়েছে পুরোদমে। ব্যাটিংয়ে বাউন্ডারি না পাওয়া, বোলিংয়ে নির্বিষ সব ডেলিভারি, সবমিলিয়ে সময়টা পক্ষে ছিল না তাদের। তবে এরমাঝেও ভারতের হারের পেছনে ৫ কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে অজিরা

১। বড় ম্যাচের চাপ: প্রথমার্ধে পিচ কঠিন ছিল। কিন্তু এতটাও কঠিন ছিল কি যে ২৪০ রানে অল-আউট হয়ে যেতে হবে? বিশেষ করে যেখানে রোহিত শর্মা শুরু থেকেই মারছিলেন অজি বোলারদের? হয়তো নয়। আসলে শুভমান গিল, শ্রেয়স আইয়াররা বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে পারলেন না। যেমন পারলেন না সূর্যকুমার যাদব। বিরাট কোহলির মতো তারকাও স্বভাববিরুদ্ধভাবে সেট হওয়ার পর বিশ্রীভাবে আউট হলেন। নাহলে এই পিচেও অন্তত ২৭০-২৮০ রান করে দেওয়া যেত। সেটা করা গেলে অন্তত এর চেয়ে ভালো লড়াই করা সম্ভব হতো।

২। বাউন্ডারি না থাকা: পুরো ম্যাচেই বাউন্ডারির জন্য হাপিত্যেশ করেছেন ভারতের ব্যাটাররা। দুই দফায় মোট ৩৫ ওভার বাউন্ডারি বঞ্চিত ছিল ভারত। বিরাট কোহলি আর লোকেশ রাহুল ক্রিজে লম্বা সময় পার করলেও বাউন্ডারির দেখা পাননি। আবার ২৯তম ওভারে বাউন্ডারির পর আরও একবার খরার মাঝে পড়তে হয় তাদের। বাউন্ডারির এই স্বল্পতায় স্কোরবোর্ডেও বড় রান জমা করা হয়নি তাদের।  

৩। ফিল্ডিং: দু’দলের মধ্যে বিরাট পার্থক্য গড়ে দিল ফিল্ডিং। অস্ট্রেলিয়া ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। বাউন্ডারি লাইনে ছিল অনবদ্য। ভারতের কমপক্ষে ৪০-৪৫ রান বাঁচিয়েছে।  অজিরা যখন শুরু থেকেই দুর্দান্ত এবং অনবদ্য ফিল্ডিংয়ে ভারতকে চেপে ধরল, তখন উলটোটাই করল ভারত। প্রথম থেকেই অতিরিক্ত রান দেওয়া, ঢিলেঢালা ফিল্ডিং, কেএল রাহুলের জঘন্য উইকেট কিপিং, অন্তত বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন পারফর্ম করলে জেতা যায় না। অস্ট্রেলিয়া প্রথমে ফিল্ডিং করে অন্তত ৩০-৪০ রান বাঁচিয়েছে। সেটা না হলে ভারতের স্কোরটা সম্মানজনক হত। লড়াইটাও করা যেত।

৪। অধিনায়কত্ব: গোটা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এবং প্রশংসিত রোহিতের অধিনায়কত্ব। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সের কাছে গোল খেয়ে গেলেন ভারত অধিনায়ক। কামিন্সের অনবদ্য ফিল্ড প্লেসিং, এবং দুর্দান্ত বোলিং ভারতীয় ইনিংসে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তাছাড়া বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে যেভাবে টসে জিতে বল করার সাহসী সিদ্ধান্ত কামিন্স নিলেন, সেটা আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। অন্যদিকে রোহিত ব্যাট হাতে এদিনও সেই কাজটা করেছেন, যেটা এতদিন করে এসেছেন। কিন্তু ফাইনালে হয়তো অধিনায়কের থেকে আরেকটু বেশি প্রত্যাশা ছিল। অধিনায়ক হিসাবেও রোহিতের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এদিন হতাশাজনক ছিল। ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যখন অস্ট্রেলিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করার সুযোগ ছিল, তখন সেই সুযোগ ভারত কাজে লাগায়নি। হেড এবং লাবুশানে যখন জুটি বেঁধে এগোচ্ছেন, তখনও সেভাবে ফিল্ড প্লেসিংয়ের মাধ্যমে চাপ তৈরি করতে পারলেন না ভারত অধিনায়ক। ওই জুটি ভাঙার পরিকল্পনাও সেভাবে চোখে পড়ল না।

৫। হেড ফ্যাক্টর: ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে গেলেন ট্রেভিস হেড। প্রথমে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সময় অনবদ্য ক্যাচ নিয়ে যেভাবে রোহিতকে ফেরালেন সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল। অনেকে বলছেন, ওটাই বিশ্বকাপের সেরা ক্যাচ। তার পর ব্যাট হাতে যে ইনিংসটা তিনি খেললেন, সেটা এককথায় অনবদ্য। ওই পাহাড়প্রমাণ চাপের মধ্যে যেভাবে তিনি স্নায়ুর চাপ সামলে শতরান করলেন, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দিনের শেষে রোহিত হয়তো আফসোস করবেন, অস্ট্রেলিয়ার কাছে নয়, হেডের কাছেই হেরে গেলেন তাঁরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ